নাহিদা: সংগ্রাম থেকে সাফল্যের শিখর
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে নিজের পরিশ্রম ও সাহসের জোরে সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন মোছা. নাহিদা খাতুন। জীবনের কঠিন বাস্তবতা, অবহেলা ও প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে তিনি আজ অর্ধকোটি টাকার ব্যবসার মালিক—যা তাকে জেলার নারীদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত করেছে।
প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে চলা
১৯৯৪ সালের ১২ আগস্ট জন্ম নেওয়া নাহিদার বেড়ে ওঠা একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী নাহিদার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু পারিবারিক সংকট ও সামাজিক চাপ সেই স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এরপর স্নাতক শেষ করে বিয়ে ও সংসারের দায়িত্ব নেন তিনি।
তবে জীবন তার জন্য সহজ ছিল না। আর্থিক সংকটের এক পর্যায়ে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে নতুন করে শুরু করতে বাধ্য হন নাহিদা।
ছোট পুঁজি থেকে বড় সাফল্য
২০১৯ সালে মাত্র ১৪ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে সেলাই কাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন নাহিদা। নরসিংদী থেকে রিজেক্ট কাপড় এনে বিক্রির মাধ্যমে ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।
করোনা মহামারির সময় যখন অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়, তখন তার ব্যবসায় উল্টো বিক্রি বাড়তে থাকে। কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে একটি সেলাই মেশিন থেকে তিনি পাঁচটি মেশিনে উন্নীত হন এবং এক দোকান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা বিস্তার করেন।
এখন তিন প্রতিষ্ঠানের মালিক
বর্তমানে আলমডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্রে নাহিদার রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান—
- নাহিদা কসমেটিক্স কর্নার
- নাহিদা লেডিস পয়েন্ট
- নাহিদা লেডিস টেইলার্স
তার এসব প্রতিষ্ঠানে মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হয় এবং পাঁচজন কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। তার মোট পুঁজি এখন ৫০ লাখ টাকারও বেশি।
স্বীকৃতি ও সম্মাননা
নিজের সাফল্যের জন্য নাহিদা পেয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কার। সফল আত্মকর্মী হিসেবে অ্যাওয়ার্ড ছাড়াও মানবাধিকারে অবদানের জন্যও তিনি সম্মানিত হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ‘অদ্বিতীয়া নারী উদ্যোক্তা অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন
নাহিদার স্বপ্ন এখানেই থেমে নেই। তিনি আলমডাঙ্গায় একটি বড় কারখানা গড়ে তুলতে চান, যেখানে শত শত নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হবে।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, নারীদেরও স্বনির্ভর হওয়া জরুরি। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে সমাজ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে—এই বিশ্বাসই তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
অনুপ্রেরণার বার্তা
নাহিদার জীবনগল্প প্রমাণ করে, ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতাও সাফল্যের সোপান হয়ে উঠতে পারে। সমাজের বাঁধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি দেখিয়েছেন—নারীরাও পারে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ে নিতে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!