Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026
১২ আগস্ট ৭ সেকেন্ড মাধ্যাকর্ষণহীন পৃথিবী? গুজবের পেছনের সত্য

১২ আগস্ট ৭ সেকেন্ড মাধ্যাকর্ষণহীন পৃথিবী? গুজবের পেছনের সত্য

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আতঙ্কজনক দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, চলতি বছরের ১২ আগস্ট গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে পৃথিবী ঠিক ৭ সেকেন্ডের জন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারাবে, যার ফলে প্রায় চার কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এমনকি দাবি করা হচ্ছে, এই বিপর্যয় আঁচ করেই বিশ্বের ধনীরা মাটির নিচে বাংকার তৈরি করছেন।

ভাইরাল এসব পোস্টে আরও বলা হয়, ‘প্রজেক্ট অ্যাংকর’ নামের নাসার একটি গোপন নথিতে নাকি এই তথ্য উল্লেখ ছিল, যা ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশ পায়। তবে এসব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে সরাসরি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

নাসার এক মুখপাত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মাধ্যাকর্ষণ কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ নয় যে চাইলেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ করা যাবে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নির্ভর করে এর মোট ভরের ওপর, যার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্র, ম্যান্টল, ভূত্বক, মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল। যতক্ষণ পৃথিবী তার ভর হারাচ্ছে না, ততক্ষণ মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হঠাৎ করে অদৃশ্য হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা নেই।

গুজবটির সূত্রপাত হয় একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। ওই ব্যক্তি নিজেকে কখনো গুগলের কর্মী, কখনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আবার কখনো অপরাধবিজ্ঞানী পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, দুটি ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেবে।

পরে এই দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটির ব্ল্যাক হোল বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম অলস্টন এ বিষয়ে বলেন, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ এতটাই দুর্বল যে তা আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে চলে গেলেও আমরা তা অনুভব করতে পারি না। এগুলো বড়জোর একটি পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্র মাত্রায় সংকোচন-প্রসারণ ঘটাতে পারে, যা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে প্রভাবিত করার মতো নয়।

উল্লেখ্য, ১২ আগস্ট একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটার কথা রয়েছে। সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করলেও তা পৃথিবীর মোট মাধ্যাকর্ষণের ওপর কোনো অস্বাভাবিক প্রভাব ফেলে না। এতে কেবলমাত্র জোয়ার-ভাটার শক্তির ওপর সামান্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গুজব বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা ও আতঙ্ক ছড়ানোর প্রবণতা থেকেই তৈরি হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো চাঞ্চল্যকর দাবি যাচাই না করে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Comment / Reply From