মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার লড়াই: দ্য রেভেন্যান্ট
অ্যাডভেঞ্চার কিংবা সার্ভাইভাল ঘরানার সিনেমা যাঁরা ভালোবাসেন, অথবা লিওনার্দো দিক্যাপ্রিওর ভক্ত—তাঁদের কাছে The Revenant (২০১৫) নিঃসন্দেহে এক অবিস্মরণীয় নাম। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ১৮২৩ সালের এক বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে। মাইকেল পাঙ্ক রচিত একই নামের উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি পরিচালনা করেন Birdman খ্যাত পরিচালক আলেহান্দ্রো গনজালেস ইনিয়ারিতু।
এই সিনেমির জন্য ৮৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেতার অস্কার জেতেন লিওনার্দো দিক্যাপ্রিও—যা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন। শুধু তাই নয়, মুক্তির বছরটিতে The Revenant বিশ্বজুড়ে ৭০টিরও বেশি পুরস্কার অর্জন করে সিনেমাপ্রেমীদের নজর কাড়ে।
চলচ্চিত্রটির গল্প ঘুরে বেড়ায় ভয়াবহ এক সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। বন্যপ্রাণীর নির্মম আক্রমণে মারাত্মকভাবে আহত হওয়া, প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা, সঙ্গীদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং জমে যাওয়া হিমশীতল পরিবেশ—সব মিলিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে টিকে থাকার লড়াই কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তা এই সিনেমা দেখলে গভীরভাবে অনুভব করা যায়। প্রতিটি মুহূর্তে দর্শক যেন চরিত্রটির সঙ্গে শ্বাস নেয়, কষ্ট পায় এবং বেঁচে থাকার আকুতি অনুভব করে।
চলচ্চিত্রটির ভিজ্যুয়াল এতটাই শক্তিশালী ও বাস্তবধর্মী যে অনেক দৃশ্য দেখার সময় গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। বরফে ঢাকা বিস্তীর্ণ প্রান্তর, নিঃসঙ্গতা আর আতঙ্ক—সবকিছু এত নিখুঁতভাবে ধারণ করা হয়েছে যে, এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরানো কঠিন হয়ে পড়ে। কিছু দৃশ্য এমনভাবে নির্মিত, যা সিনেমা শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকে।
লিওনার্দো দিক্যাপ্রিও ও টম হার্ডির মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের দুর্দান্ত অভিনয় ছবিটিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দুজনের চরিত্রের সংঘাত, মানসিক টানাপোড়েন ও আবেগ প্রকাশ দর্শককে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
একজন সাধারণ মানুষের জীবনে কীভাবে চরম প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, যা বিশ্বসেরা উপন্যাস ও চলচ্চিত্রের জন্ম দেয়—The Revenant সেই উপলব্ধিরই এক জীবন্ত উদাহরণ। প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা আর মানুষের অদম্য মানসিক শক্তির গল্প দেখতে চাইলে এই সিনেমাটি অবশ্যই দেখার মতো।
Comment / Reply From
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!