যে শহরে ৮৪ দিন সূর্য ডোবে না
যে শহরে টানা ৮৪ দিন সূর্য অস্ত যায় না, জানুন এর বৈজ্ঞানিক রহস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: পৃথিবীতে এমনও একটি শহর রয়েছে, যেখানে একবার সূর্য ওঠার পর টানা ৮৪ দিন আর অস্ত যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে উত্তরের শহর উতকিয়াগভি (Utqiaġvik)-তে প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে দেখা মেলে এই বিরল প্রাকৃতিক ঘটনার, যা ‘মিডনাইট সান’ (Midnight Sun) বা মধ্যরাতের সূর্য নামে পরিচিত।
চলতি মৌসুমে ১০ মে স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৫৭ মিনিটে সূর্য ওঠার পর শহরটিতে শুরু হয়েছে টানা দিনের আলোর সময়। আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে সূর্য অস্ত যাবে না।
কেন ঘটে এই বিরল ঘটনা?
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর অক্ষ প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে সূর্যের দিকে হেলে থাকায় গ্রীষ্মকালে আর্কটিক অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরলেও সূর্য দিগন্তের নিচে নামে না, ফলে দিন-রাত মিলিয়ে পুরো সময়ই আকাশে সূর্যের উপস্থিতি দেখা যায়।
এই ঘটনা মূলত আর্কটিক সার্কেলের ভেতরের অঞ্চলগুলোতে ঘটে এবং এটি পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে পরিচিত।
কবে ফিরবে রাতের অন্ধকার?
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, উতকিয়াগভিতে আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত সূর্য আকাশে দৃশ্যমান থাকবে। তবে প্রকৃত রাতের অন্ধকার ফিরে আসতে অপেক্ষা করতে হবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
সারাদিন সূর্য থাকলেও তাপমাত্রা কেন কম?
অনেকেই মনে করেন, টানা সূর্যের আলো থাকলে তাপমাত্রা অনেক বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
আবহাওয়া বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আকুওয়েদার-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস শহরটির সবচেয়ে উষ্ণ সময় হলেও গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাত্র ৪৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। কারণ সূর্যের আলো দীর্ঘ সময় থাকলেও এর তাপের তীব্রতা তুলনামূলক কম এবং অঞ্চলটি বরফাচ্ছন্ন পরিবেশের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
দীর্ঘ দিনের আলো কীভাবে কাজে লাগে?
শুধু উতকিয়াগভিই নয়, আলাস্কার এনকোরিজসহ আরও কয়েকটি শহরেও বর্তমানে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত সূর্যের আলো দেখা যায়।
দীর্ঘ সময়ের এই প্রাকৃতিক আলোকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা রাতেও বাগান করা, মাছ ধরা, নির্মাণকাজ এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যান। ফলে গ্রীষ্মকাল সেখানে কাজ ও ভ্রমণের অন্যতম উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রকৃতির এই বিস্ময়কর ঘটনা পৃথিবীর ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ, যা প্রতি বছর হাজারো পর্যটক ও গবেষকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!