শ্রাবণে হাওরের রূপে হারিয়ে যান, ঘুরে আসুন নিকলী-মিঠামইন
শ্রাবণের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হোন, ঘুরে আসুন নিকলী-মিঠামইন হাওর
নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ষা এলেই বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। চারদিকে অথৈ জলরাশি, দূরে দিগন্তজোড়া নীল আকাশ আর শীতল বাতাস—সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন এক অপূর্ব সৌন্দর্যের আবরণে ঢেকে যায়। আর এই সৌন্দর্য উপভোগের জন্য কিশোরগঞ্জের নিকলী ও মিঠামইন হাওর এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য।
বর্ষাকালে ছোট-বড় নদী, খাল ও বিল একাকার হয়ে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সমুদ্রের বুক চিরে এগিয়ে চলছে নৌকা। শ্রাবণ মাসে এই হাওরগুলোর প্রকৃত সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।
নিকলী হাওরের মোহনীয় রূপ
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা বর্ষায় এক বিশাল জলরাজ্যে পরিণত হয়। নৌকায় চলাচল করা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, মাঝিদের মাছ ধরা, জেগে ওঠা ছোট ছোট চর এবং হাওরের টাটকা মাছের স্বাদ—সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
হাওর ভ্রমণের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন ঐতিহাসিক গুরই শাহি জামে মসজিদ এবং পাহাড় খাঁর মাজার।
জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময় নিকলী হাওর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত মৌসুম। বর্ষাকালে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, তাই চলাচলের প্রধান মাধ্যম নৌকা বা ট্রলার।
যেভাবে যাবেন নিকলী হাওর
নিকলী হাওর কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায় অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস বা ট্রেনে কিশোরগঞ্জে পৌঁছে সেখান থেকে অটোরিকশা বা ইজিবাইকে নিকলী বেড়িবাঁধে যাওয়া যায়। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলীর দূরত্ব প্রায় ২৫-২৭ কিলোমিটার এবং সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।
মিঠামইন হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনও বর্ষার সময় পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। বিশাল জলরাশি, শান্ত পরিবেশ এবং অল ওয়েদার সড়ক এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।
হাওর ভ্রমণের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন মালিকের দরগা, দিল্লির আখড়া, প্রাচীন মসজিদ ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো। স্থানীয় হোটেলে পাওয়া যায় হাওরের টাটকা মাছের সুস্বাদু খাবার। এছাড়া বিভিন্ন মানের হোটেল, রিসোর্ট ও ডাকবাংলোতে আগাম বুকিংয়ের মাধ্যমে থাকার সুযোগ রয়েছে।
যেভাবে যাবেন মিঠামইন
প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে পৌঁছে বালিখলা ঘাটে যেতে হবে। সেখান থেকে ঘণ্টাভিত্তিক বা সারাদিনের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে মিঠামইন হাওর ঘুরে দেখা যায়। নৌকায় পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
শুকনো মৌসুমে নদী পার হয়ে সড়কপথেও সহজেই মিঠামইনে যাওয়া সম্ভব।
হাওর ভ্রমণে যেসব সতর্কতা জরুরি
বর্ষাকালে হাওরে হঠাৎ তীব্র বাতাস ও বড় ঢেউ উঠতে পারে। তাই নৌভ্রমণের সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা উচিত। দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করলে নৌকা বা ট্রলারের খরচও কমে যায়। এছাড়া যাত্রার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেওয়া নিরাপদ ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃতির এক অনন্য রূপ উপভোগ করতে চাইলে এই শ্রাবণে নিকলী ও মিঠামইন হাওর হতে পারে আপনার জন্য সেরা ভ্রমণ গন্তব্য।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!