Dark Mode
Image
  • Wednesday, 04 February 2026
শবে বরাতে হালুয়া–রুটির রেওয়াজের পেছনের ইতিহাস

শবে বরাতে হালুয়া–রুটির রেওয়াজের পেছনের ইতিহাস

পবিত্র শাবান মাসের ১৪ তারিখের রাত মুসলমানদের কাছে পরিচিত শবে বরাত হিসেবে। এই রাতকে ঘিরে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া–ইবাদতে রাত কাটান। ইবাদতের পাশাপাশি এই রাতকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে গড়ে উঠেছে কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতি, যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো হালুয়া ও রুটির আয়োজন।

শবে বরাত এলেই অনেক পরিবারে ঘরে ঘরে তৈরি হয় নানা ধরনের হালুয়া ও রুটি। শুধু পরিবারের মধ্যেই নয়, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝেও এই খাবার বিতরণ করা হয় সৌহার্দ্য ও আনন্দ ভাগাভাগির অংশ হিসেবে। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, শবে বরাতে হালুয়া–রুটি খাওয়ার বিষয়টি কোনো ধর্মীয় ফরজ বা সুন্নত আমলের অংশ নয়। এটি মূলত সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক ঐতিহ্য।

ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, মিষ্টি খাবার দীর্ঘদিন ধরেই আনন্দ ও উৎসবের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ অঞ্চলে শবে বরাত উদ্‌যাপনের রীতি বিশেষভাবে বিস্তার লাভ করে উনিশ শতকের শেষভাগে। সে সময় ঢাকার নবাব পরিবার শবে বরাত উপলক্ষে আলোকসজ্জা, দান–খয়রাত ও খাদ্য বিতরণের আয়োজন করতেন। তখন বাজারজাত মিষ্টির প্রচলন কম থাকায় সহজে তৈরি করা যায়—এমন খাবার হিসেবে হালুয়া জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

নবাবদের সেই উৎসবমুখর আয়োজন ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে শবে বরাতের দিন সরকারি ছুটি ঘোষিত হলে এই রাতের সামাজিক গুরুত্ব আরও বাড়ে। ফলে হালুয়া ও রুটি শবে বরাতের খাবারের তালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নেয়।

এ ছাড়া হাদিসে পাওয়া যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি খাবার পছন্দ করতেন। এই তথ্যও মুসলমানদের মধ্যে মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা। তাঁদের ধারণা, ইবাদতের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়েই শবে বরাতের সঙ্গে হালুয়া–রুটির মতো মিষ্টি খাবারের প্রচলন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শবে বরাতে হালুয়া–রুটির রেওয়াজ ধর্মীয় বিধানের চেয়ে বেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন—যার মূল লক্ষ্য এই পবিত্র রাতের আনন্দ একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।

Comment / Reply From