Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026
রমজানের আগে নিজেকে প্রস্তুত করবেন যেভাবে

রমজানের আগে নিজেকে প্রস্তুত করবেন যেভাবে

ইসলামি বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবান—রমজানের ঠিক আগের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসকে অনেক আলেমই বলেন ‘রমজানের প্রস্তুতির মাস’ বা ‘ইবাদতের রিহার্সাল’। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজান যেন হঠাৎ এসে না পড়ে—সে জন্যই শাবান আমাদের জন্য এক নীরব আহ্বান, নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। হাদিসে এসেছে, তিনি এই মাসে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি নফল রোজা রাখতেন। এর মাধ্যমে তিনি উম্মতকে বুঝিয়ে দিয়েছেন—রমজানের জন্য মানসিক, আত্মিক ও আমলগত প্রস্তুতি কতটা জরুরি।

ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলার সময়

অনেকেই রমজান এলেই হঠাৎ ইবাদতে মনোযোগী হতে চান। কিন্তু পূর্ব অভ্যাস না থাকলে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়। শাবান মাস হতে পারে এই অভ্যাস তৈরির আদর্শ সময়।
এই সময়ে চেষ্টা করা যেতে পারে—

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায়ে অভ্যস্ত হওয়া

নফল নামাজ ও নফল রোজা শুরু করা

প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াতের একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা

অল্প অল্প করে শুরু করলে রমজানে ইবাদত স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

তওবা ও আত্মসমালোচনার সুযোগ

রমজানের আগে অন্তরকে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে জরুরি। শাবান হলো নিজেকে ফিরে দেখার সময়। অতীতের ভুল ও গুনাহের জন্য আন্তরিক তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার এটাই সুবর্ণ সুযোগ।
নিজেকে প্রশ্ন করুন—

আল্লাহর হক কি যথাযথভাবে আদায় করেছি?

মানুষের হকের ব্যাপারে কতটা সচেতন ছিলাম?

আমার আচরণ ও কথাবার্তা কি একজন মুমিনের মতো ছিল?

এই আত্মসমালোচনা রমজানকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

চরিত্র ও মানসিক প্রস্তুতি

রমজান কেবল না খেয়ে থাকার মাস নয়; এটি সংযম, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির মাস। তাই শাবানেই মনকে প্রস্তুত করা দরকার।
এ সময় চেষ্টা করা যেতে পারে—

রাগ, হিংসা ও অহংকার নিয়ন্ত্রণে রাখা

গিবত, মিথ্যা ও কটু কথা পরিহার করা

পরিবার ও আশপাশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর করা

বিশুদ্ধ মন ছাড়া ইবাদতের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না।

দোয়া ও প্রত্যাশার মাস

শাবান মাসে বেশি বেশি দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই দোয়াটি—
“হে আল্লাহ, আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।”

রমজান পাওয়াই বড় নিয়ামত। তাই সুস্থ শরীর ও ঈমানসহ রমজান পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে বেশি করে প্রার্থনা করা উচিত।

বাজে অভ্যাস বর্জনের অনুশীলন

অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট—এসব অভ্যাস রমজানে ইবাদতের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শাবান মাস থেকেই স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনার চর্চা শুরু করলে রমজানে তা সহজ হয়।

দান-সদকার চর্চা

দান-সদকা মানুষের মন নরম করে। রমজানের আগে শাবান থেকেই দান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আশপাশের অভাবী মানুষদের খোঁজ নেওয়া ও তাদের রমজানের প্রস্তুতিতে সহায়তা করাও একটি বড় ইবাদত।

বাস্তব প্রস্তুতিও জরুরি

আত্মিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কিছু বাস্তব পরিকল্পনাও দরকার—

রমজানের দৈনন্দিন রুটিন আগেই ঠিক করা

কাজ ও ইবাদতের মধ্যে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা

পরিবারকে মানসিকভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুত করা

শাবান হলো বীজ বপনের সময়, আর রমজান ফসল তোলার মাস। শাবান যদি অবহেলায় কেটে যায়, তবে রমজানের পূর্ণ ফল পাওয়া কঠিন। তাই আসুন, এই মাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে গড়ে তুলি—যেন রমজান এসে আমাদের জীবনকে সত্যিই বদলে দিতে পারে।

Comment / Reply From