সন্তান লালন-পালনে যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি
সন্তানকে চোখের সামনে বড় হতে দেখা যেমন আনন্দের, তেমনি তার সঠিক লালন-পালন একটি বড় দায়িত্ব। শিশুর মানসিক, সামাজিক ও আচরণগত বিকাশ অনেকাংশেই নির্ভর করে বাবা-মা ও অভিভাবকদের আচরণের ওপর। অনেক সময় অজান্তেই কিছু ভুল সিদ্ধান্ত বা আচরণ সন্তানের ব্যক্তিত্ব গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তান বড় করার পথে কোন কোন ভুল করা উচিত নয়, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত শাসন এড়িয়ে চলুন
শিশুর ভুল করা স্বাভাবিক। ভুলের জন্য অতিরিক্ত বকাঝকা বা কঠোর শাসন করলে সন্তানের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। এতে তারা ভীতু হয়ে পড়ে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
তুলনা করা থেকে বিরত থাকুন
সন্তানের ফলাফল, আচরণ বা দক্ষতা অন্য শিশুদের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। ভাইবোন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে তুলনা করলে শিশুর মনে হীনমন্যতা তৈরি হয় এবং নিজস্ব সক্ষমতা বিকাশে তারা আগ্রহ হারাতে পারে।
নিজের ভুল স্বীকার করুন
বাবা-মায়েরও ভুল হতে পারে—এটি স্বাভাবিক। নিজের ভুল স্বীকার করে সন্তানের কাছে ক্ষমা চাইতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না। এতে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় এবং তারা শেখে যে ভুল করা মানবিক বিষয়।
ভালো কাজে প্রশংসা করুন
শিশুর ছোট ছোট ভালো কাজের প্রশংসা করা খুবই জরুরি। পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া, সময়মতো কাজ করা কিংবা সৃজনশীল কোনো উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই উৎসাহ দিলে সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
সন্তানের জন্য সময় দিন
দামি উপহার নয়, সন্তানের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বাবা-মায়ের সময় ও মনোযোগ। নিয়মিত সময় দিলে তারা নিজেদের গুরুত্বহীন বা অবহেলিত মনে করে না।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিন
শিশুকে ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিতে দিন—যেমন কী পোশাক পরবে বা কোন খেলাটি খেলবে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা গড়ে ওঠে।
নেতিবাচক কথা বলা থেকে বিরত থাকুন
সন্তানের সামনে অন্যকে অপমান করা বা নেতিবাচক মন্তব্য করা উচিত নয়। এতে শিশুর মানসিকতায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। তবে বাস্তব জীবন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ও বয়সোপযোগী আলোচনা করা যেতে পারে।
উপসংহার
সন্তান লালন-পালনে ধৈর্য, সচেতনতা ও ইতিবাচক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অল্প কিছু সচেতন পরিবর্তনই সন্তানের মানসিক বিকাশ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
Comment / Reply From
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!