সবজির লাভে পাঁচ হাজার গোলাপের স্বপ্ন!
কলেজের ক্লাস শেষ করেই ছুটতেন মাঠে। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করতেন নানা ধরনের সবজি। সেই সবজি বিক্রির আয় থেকেই জমতে থাকে স্বপ্ন পূরণের পুঁজি। একসময় সেই পুঁজিতে গড়ে তোলেন হাজারো গোলাপে সাজানো দৃষ্টিনন্দন বাগান। বলছি ময়মনসিংহের কলেজছাত্র মো. শামীম মিয়ার কথা, যাঁর পরিশ্রম ও উদ্যোগ এখন স্থানীয় মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।
সবজি চাষ থেকে গোলাপ বাগানের যাত্রা
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দড়ি কুষ্টিয়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান শামীম মিয়া। তিনি মুক্তাগাছা শহীদ স্মৃতি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ থেকেই সবজি চাষ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই চাষের লাভ দিয়ে নিজের আরও বড় স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যান।
২০২৫ সালে বাড়ির পাশের ১০০ শতক জমি ১০ বছরের জন্য ইজারা নেন শামীম। এর মধ্যে ৫০ শতক জমিতে গড়ে তোলেন দেশি ও বিদেশি জাতের গোলাপের বাগান। বর্তমানে তাঁর বাগানে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার গোলাপগাছ।
নানা রঙের গোলাপে সাজানো বাগান
শামীমের বাগানে ফুটেছে লাল, সাদা, হলুদ, কমলা ও গোলাপি রঙের অসংখ্য গোলাপ। এখানে চাষ হচ্ছে হোয়াইট অ্যাভাল্যান্স, টপ সিক্রেট, সোলারিয়া, জুমেলিয়াসসহ বিভিন্ন জাতের গোলাপ। যশোর ও ভারত থেকে সংগ্রহ করা চারা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই বাগান।
সারি সারি গোলাপগাছ আর ফুলের বৈচিত্র্যে বাগানটি হয়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন। মুক্তাগাছা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই মানুষ আসছেন ফুলের সৌন্দর্য দেখতে। একজন কলেজশিক্ষার্থীর হাত ধরে গড়ে ওঠা এই বাগান এখন স্থানীয় মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
শামীমকে দেখে কৃষিতে আগ্রহী তরুণেরা
শামীমের উদ্যোগ শুধু দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে না, অন্য তরুণদের মধ্যেও তৈরি করছে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ। তাঁর গোলাপ বাগান দেখে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করছেন এবং ফুল চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শামীমসহ নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। এতে আগ্রহী তরুণেরা পরিকল্পিতভাবে ফুল চাষ শুরু করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গোলাপের বাগানে ভবিষ্যতের স্বপ্ন
পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকাজ করে নিজের উদ্যোগ গড়ে তোলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শামীম মিয়া। সবজি চাষ থেকে অর্জিত আয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে সীমিত পরিসর থেকেও বড় স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সংশ্লিষ্টদের আশা, শামীমের এই উদ্যোগ আরও তরুণকে কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় আগ্রহী করে তুলবে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে। হাজারো গোলাপের সুবাস ছড়ানো এই বাগান তাই শুধু সৌন্দর্যের জায়গা নয়, এক তরুণের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা স্বপ্নেরও প্রতিচ্ছবি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!