Dark Mode
Image
  • Wednesday, 28 October 2026
২৫ হাজার খরচে লাখ টাকার আখ!

২৫ হাজার খরচে লাখ টাকার আখ!

 

একসময় যে জমিতে ধান-পাট চাষেই সীমাবদ্ধ ছিলেন কৃষকেরা, সেই জমিতেই এখন আখ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন অনেকে। সারি সারি মিষ্টি আখে ছেয়ে গেছে মানিকগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠ। এক বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে মৌসুম শেষে প্রায় লাখ টাকার আখ বিক্রি করছেন কৃষকেরা। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এই ফসলের প্রতি তাঁদের আগ্রহ বাড়ছে।

আখের আবাদে বাড়ছে আগ্রহ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার রমনপুর ও পাথরাইল গ্রামের মাঠজুড়ে এখন আখের সমারোহ। চলতি মৌসুমে জেলাটিতে ৫২৪ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলা, সিংগাইর ও সাটুরিয়া এলাকায় আখ চাষ হচ্ছে তুলনামূলক বেশি।

কৃষকদের কাছে আখ এখন শুধু একটি মৌসুমি ফসল নয়, বরং আয়ের অন্যতম সম্ভাবনাময় উৎস। তুলনামূলক ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় অনেকেই আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

এক বছর পরিচর্যার পর শুরু হয় বিক্রি

আশ্বিন মাসে জমিতে আখের চারা রোপণ করেন কৃষকেরা। এরপর প্রায় এক বছর ধরে চলে গাছের পরিচর্যা। ভাদ্র মাস থেকে শুরু হয় আখ কাটার মৌসুম। ফলন ভালো হলে এ চাষ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা।

আখের জমি থেকে বাড়তি আয় করতেও কৌশলী হয়েছেন চাষিরা। একই জমিতে আখের পাশাপাশি মুলা, গাজর, ধনেপাতা, লালশাক কিংবা তামাকের মতো ফসল চাষ করছেন কেউ কেউ। এতে আখ বিক্রির আয় ছাড়াও অন্য ফসল থেকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

মিষ্টি আখের চাহিদা রাজধানীতেও

মানিকগঞ্জের মাঠে ঈশ্বরদী, বোম্বাই, রংবিলাস, ধলি ও মিস্রিমালাসহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষ হচ্ছে। এসব জাতের ভালো ফলন, তুলনামূলক কম রোগবালাই এবং মিষ্টি স্বাদের কারণে বাজারে চাহিদা রয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকের জমিতে এসে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে কৃষকেরা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দূরবর্তী ক্রেতাদের কাছেও উৎপাদিত ফসল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রতিটি আখ পাইকারি পর্যায়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পরে খুচরা বাজারে একই আখের দাম বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এই বেচাকেনায় কৃষকের পাশাপাশি লাভের সুযোগ পাচ্ছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরাও।

উৎপাদন খরচ নিয়ে উদ্বেগ

আখ চাষে সম্ভাবনা থাকলেও সার ও অন্যান্য উৎপাদন উপকরণের বাড়তি দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। তাঁদের মতে, উৎপাদন খরচ সহনীয় পর্যায়ে রাখা গেলে এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে আখের আবাদ আরও বাড়ানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে মানিকগঞ্জে আখ চাষ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। একদিকে মাঠজুড়ে মিষ্টি আখের সমারোহ, অন্যদিকে লাভের আশায় কৃষকদের বাড়তি আগ্রহ—দুইয়ে মিলে বদলে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষির চিত্র। সঠিক সহায়তা ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই আবাদ ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষকের আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠতে পারে।

Comment / Reply From