সাগর লবণাক্ত, নদী নয়—কারণ কী?
নদীর পানি প্রতিনিয়ত সাগরে গিয়ে মিশছে, কিন্তু তবুও নদীর পানি থাকে মিষ্টি আর সাগরের পানি লবণাক্ত—এই প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা।
বিজ্ঞানীদের মতে, সাগরের পানি কোটি কোটি বছর ধরে জমা হচ্ছে। ধারণা করা হয়, প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি বছর ধরে পৃথিবীর সাগরগুলোতে পানি জমে রয়েছে। অন্যদিকে, নদীগুলোর বয়স তুলনামূলকভাবে অনেক কম—কয়েক লাখ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর মাত্র। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে বিভিন্ন উপাদান জমা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নদী যখন পাহাড়, মাটি ও পাথরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা মাটি থেকে বিভিন্ন খনিজ ও লবণ ধুয়ে নিয়ে যায়। এই খনিজ পদার্থগুলো নদীর পানির সঙ্গে ভেসে শেষ পর্যন্ত সাগরে গিয়ে জমা হয়। কিন্তু নদীর পানি ক্রমাগত প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে এসব পদার্থ জমে থাকার সুযোগ কম।
অন্যদিকে, সাগরের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সাগরের পানি বাষ্পীভূত হয়ে আকাশে উঠে যায় এবং পরে বৃষ্টি হয়ে আবার মাটিতে ফিরে আসে। কিন্তু এই বাষ্পীভবনের সময় লবণ ও খনিজ পদার্থ সাগরেই থেকে যায়। ফলে ধীরে ধীরে সাগরের পানিতে লবণের পরিমাণ বাড়তে থাকে।
তবে সব নদীর পানি পুরোপুরি মিষ্টি নয়। সাগরের কাছাকাছি অঞ্চলগুলোতে, বিশেষ করে নদীর মোহনায়, জোয়ারের সময় সাগরের লবণাক্ত পানি নদীতে ঢুকে পড়ে। এ কারণে খুলনা অঞ্চলের ভৈরব ও রূপসা নদীর পানিতে কিছুটা লবণাক্ততা লক্ষ্য করা যায়।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে। এর ফলে লবণাক্ত পানি আগের চেয়ে আরও ভেতরের দিকে নদীতে প্রবেশ করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সাগরের লবণাক্ততা তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সময়ের সঞ্চয় আর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কারণে, যেখানে নদী তার প্রবাহমান স্বভাবের জন্য সেই লবণ জমতে দেয় না।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!