হালুয়াঘাটে আঙুর চাষে সফল তরুণ সোহাগ
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটে শখের বশে শুরু হওয়া আঙুর চাষ এখন স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছে। উপজেলার উত্তর খয়রাকুড়ি গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন সোহাগ নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী একটি আঙুর বাগান, যা ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘সৌখিন কৃষি গার্ডেন’ নামের এই বাগানে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে আসছেন দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুরের বাগান দেখতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিপাটি বাগানের সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকায় থোকায় সবুজ ও বেগুনি রঙের আঙুর। মাত্র ১৫ শতক জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুর চাষ করে সফলতার নজির গড়েছেন সোহাগ।
স্থানীয়রা বলছেন, এ অঞ্চলের মাটিতে আঙুর চাষ সম্ভব—এমন ধারণা আগে খুব একটা ছিল না। তবে সোহাগের সফলতা সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।
মনোয়ার হোসেন সোহাগ জানান, ২০২২ সালে ঝিনাইদহ থেকে ছয়টি আঙুরের চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন তিনি। মূলত ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি।
নিয়মিত পরিচর্যা, জৈব ও রাসায়নিক সারের সঠিক ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং নেট ও রশির মাচা তৈরি করে দীর্ঘদিন যত্ন নেওয়ার ফলেই এই সফলতা এসেছে বলে জানান তিনি।
আঙুরের পাশাপাশি তার বাগানে রয়েছে আনার, লংগান, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, বরই, জামরুল, জলপাই ও আমলকিসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ।
বর্তমানে বাজারে আঙুরের চাহিদা বেশি থাকায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুরেরও সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অনেকেই বলছেন, এই বাগানের আঙুর আমদানিকৃত আঙুরের তুলনায় স্বাদে আরও ভালো ও মানসম্মত।
শুরুতে বিষয়টি স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানত না। পরে খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর উদ্যোক্তা সোহাগকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের স্বপ্ন দেখছেন সোহাগ। তার এই উদ্যোগ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের তরুণদের মাঝেও আধুনিক কৃষি নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!