ইউরোপের গিফট বক্সের ফাঁদ: অনলাইন প্রেমে সর্বস্বান্ত হওয়ার ভয়াবহ গল্প
হঠাৎ যদি কেউ জানায়—ইউরোপের কোনো দেশ থেকে আপনাকে পাঠানো হয়েছে দামী জুয়েলারি সেট, মোবাইল ফোন, নানা উপহার সামগ্রী এবং সঙ্গে ১০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ডের একটি গিফট বক্স—তাহলে আপনার প্রতিক্রিয়া কী হবে? অনেকের কাছেই বিষয়টি স্বপ্নের মতো মনে হলেও বাস্তবে এটি ভয়ংকর এক প্রতারণার ফাঁদ।
সম্প্রতি অনলাইন মাধ্যমে এমন ‘গিফট ট্র্যাপ’-এ পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বহু সহজ-সরল নারী। প্রতারকরা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপীয় নাগরিক পরিচয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। প্রতিদিনের মেসেজ, ফোনকল, আবেগঘন কথাবার্তায় বিশ্বাস তৈরি করা হয় নিখুঁতভাবে।
একপর্যায়ে প্রেমিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে দামী গিফট পাঠানোর কথা জানায়। ভিকটিমকে বলা হয়—এটি একটি ‘সারপ্রাইজ’। কিছুদিন পর বিমানবন্দর থেকে ফোন আসে। জানানো হয়, গিফট রিসিভ করতে হলে কাস্টমস বা প্রসেসিং চার্জ হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হবে—ধরা যাক ৪৪ হাজার টাকা।
ভালোবাসা ও বড় অঙ্কের গিফটের আশায় ভিকটিম সেই টাকা পাঠিয়ে দেন। এরপর শুরু হয় অপেক্ষা—যার কোনো শেষ নেই। গিফট আসে না, যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, আর তখনই বোঝা যায়—সবই ছিল প্রতারণা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, এসব প্রতারণা কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের কাজ। তারা পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু নারীকে টার্গেট করে এবং অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করে টাকা হাতিয়ে নেয়।
একজন অতিরিক্ত আইজির বরাতে জানা গেছে, এর আগে এক কলেজ শিক্ষকের মেয়ে এই ফাঁদে পড়ে এক লাখ টাকা হারিয়েছেন। সিআইডি সূত্র জানায়, কেউ কেউ ১০–১১ লাখ টাকা পর্যন্ত খুইয়েছেন—কিন্তু গিফট তো দূরের কথা, প্রতারকের আর কোনো খোঁজই মেলেনি।
এই প্রতিবেদকের কাছের একজন আত্মীয়ও এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেমের প্রস্তাব, ইউরোপীয় নাগরিক পরিচয়—সব মিলিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পরই আসে সেই ‘গিফট ট্র্যাপ’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। অপরিচিত বিদেশি পরিচয়ের কাউকে বিশ্বাস করে কোনো অর্থ লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!