এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার: অসচেতনতা নয়, সচেতনতাই পারে দুর্ঘটনা কমাতে
বর্তমানে দেশের অন্যতম জনসম্পৃক্ত জ্বালানি খাত হলো এলপিজি (Liquefied Petroleum Gas)। শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই রান্নার কাজে এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সাধারণ মানুষের অসচেতন ব্যবহারের কারণে প্রায়ই গ্যাস চুলা বা সিলিন্ডার–সংক্রান্ত দুর্ঘটনার খবর শোনা যাচ্ছে। এতে হতাহত ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এলপিজি ব্যবহারে এক ধরনের আতঙ্কও তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দুর্ঘটনার জন্য মূলত সিলিন্ডার দায়ী নয়; বরং ভুল ব্যবহার, অবহেলা ও নিরাপত্তা বিধি না মানাই প্রধান কারণ। সচেতনতা বাড়ানো গেলে এলপিজি দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এলপিজি দুর্ঘটনা এড়াতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
* রান্না শেষে চুলা ও সিলিন্ডারের রেগুলেটর সুইচ অবশ্যই বন্ধ করুন।
* সিলিন্ডার কখনোই চুলা বা আগুনের খুব কাছে রাখবেন না।
* গ্যাসের গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে দরজা-জানালা খুলে দিন এবং রেগুলেটর বন্ধ করুন।
* বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে, চুলা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সিলিন্ডার রাখুন।
* রান্না শুরুর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখুন।
* রান্নাঘরের ওপর ও নিচে ভেন্টিলেটর থাকা জরুরি।
* গ্যাসের গন্ধ পেলে ম্যাচ জ্বালানো, ইলেকট্রিক সুইচ বা মোবাইল অন-অফ করা থেকে বিরত থাকুন।
* চুলা যেন সিলিন্ডারের তুলনায় অন্তত ৬ ইঞ্চি উঁচুতে থাকে, তা নিশ্চিত করুন।
গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে যেসব ভুল কখনোই করবেন না
* সিলিন্ডারের সঙ্গে ব্যবহৃত রাবার পাইপে অবশ্যই ‘বিএসটিআই’ অনুমোদনের ছাপ থাকতে হবে এবং পাইপের দৈর্ঘ্য ১–১.৫ ফুটের বেশি হওয়া উচিত নয়।
* রেগুলেটরের নজেল যেন পাইপ দিয়ে ভালোভাবে ঢাকা থাকে এবং গরম বার্নারের সঙ্গে পাইপ যেন স্পর্শ না করে।
* গ্যাসের পাইপ নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন, তবে সাবান পানি ব্যবহার করবেন না।
* দুই বছর পরপর গ্যাসের পাইপ পরিবর্তন করুন।
* পাইপ ঢেকে রাখবেন না; এতে লিক হলে সহজে বোঝা যায় না।
* গ্যাস লিক হলে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাবেন না; রেগুলেটর বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলুন।
* গন্ধ না কমলে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।
* খালি সিলিন্ডার থেকে রেগুলেটর খোলার সময় আশপাশে মোমবাতি বা আগুন যেন না থাকে।
* একটি ঘরে দুটি সিলিন্ডার রাখতে হলে অন্তত ১০ বর্গফুট জায়গা থাকা প্রয়োজন।
* সিলিন্ডারের ওপর কাপড়, বাসন বা অন্য কোনো জিনিস রাখবেন না।
মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার: ঘরে রাখা মানেই ঝুঁকি
মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ঘরে বা গাড়িতে রাখা এক ধরনের ‘টাইম বোমা’র মতো। রাজধানীর চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তাই নিয়মিত সিলিন্ডারের মেয়াদ যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।
সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই এলপিজি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মগুলো মেনে চলুন, নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলুন।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!