এল নিনোর নতুন চক্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে যেসব দেশ ও কৃষি অঞ্চল
এল নিনোর নতুন চক্রে কৃষিতে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা, সবচেয়ে ঝুঁকিতে যেসব অঞ্চল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে এল নিনো আবহাওয়া চক্র। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এবার এটি আগের অনেক চক্রের তুলনায় আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা, ফসলের ক্ষতি, চারণভূমি শুকিয়ে যাওয়া এবং খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) যৌথভাবে ২২টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের প্রায় ৮৮ লাখ মানুষের সহায়তায় ২০ কোটি ২০ লাখ ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন জানিয়েছে।
শক্তিশালী এল নিনোর সতর্কবার্তা
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, আসন্ন এল নিনো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এফএও গত ৪১ বছরের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে অতীতের তীব্র এল নিনো চক্রে সবচেয়ে বেশি খরাগ্রস্ত কৃষি অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ পাবে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে যেসব অঞ্চল
এফএওর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আসন্ন এল নিনোর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে—
-
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল
-
দক্ষিণ আফ্রিকা
-
দক্ষিণ এশিয়া
-
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
-
মধ্য আমেরিকা
-
ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ
এসব অঞ্চলের বহু এলাকায় কৃষিভিত্তিক খরার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশেরও বেশি বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় কৃষি সংকটের আশঙ্কা
দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আবারও ভয়াবহ খরা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে এফএও।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে—
-
নামিবিয়া
-
বতসোয়ানা
-
অ্যাঙ্গোলা
-
জাম্বিয়া
-
জিম্বাবুয়ে
-
দক্ষিণ আফ্রিকা
-
মোজাম্বিক
-
মাদাগাস্কারের কিছু অংশ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশের কৃষি পুরোপুরি বৃষ্টিনির্ভর হওয়ায় খরা শুরু হলে ফসলের পাশাপাশি গবাদিপশুও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
সাহেল অঞ্চলে বাড়বে খাদ্য সংকট
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে টানা কয়েক বছর ধরেই খাদ্য সংকট চলছে। নতুন এল নিনো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—
-
সেনেগাল
-
মৌরিতানিয়া
-
কোত দিভোয়ার
-
ঘানা
-
টোগো
-
বেনিন
-
নাইজেরিয়া
-
ইথিওপিয়া
-
সুদান
চলমান সংঘাত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ায় এসব এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলেও সংকট
মধ্য আমেরিকার ‘ড্রাই করিডোর’ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে—
-
হাইতি
-
কিউবা
-
ডোমিনিকান রিপাবলিক
-
কলম্বিয়া
-
ভেনেজুয়েলা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অঞ্চলে খরা দ্রুত খাদ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।
এশিয়ার কৃষিতেও বড় ধাক্কা
এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে—
-
ভারত
-
পাকিস্তান
-
মিয়ানমার
-
থাইল্যান্ড
-
কম্বোডিয়া
-
ভিয়েতনাম
-
ফিলিপাইন
-
ইন্দোনেশিয়া
-
পূর্ব তিমুর
বিশেষ করে ধান ও ভুট্টার মতো বৃষ্টিনির্ভর ফসলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব বিশ্ব খাদ্যবাজারেও পড়তে পারে।
আগাম প্রস্তুতিই হতে পারে বড় সমাধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগেভাগে সতর্কতা পেলে কৃষকরা—
-
খরা-সহনশীল ফসল নির্বাচন করতে পারবেন।
-
চাষের সময় পরিবর্তন করতে পারবেন।
-
গবাদিপশুর খাদ্য আগেই মজুত করতে পারবেন।
-
বিকল্প পানির উৎস নিশ্চিত করতে পারবেন।
এফএওর উন্নত স্যাটেলাইটভিত্তিক মানচিত্র সরকারগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সেখানে সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কেন এখনই পদক্ষেপ জরুরি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর প্রভাব আগের তুলনায় আরও তীব্র হতে পারে। তাই দুর্যোগ শুরু হওয়ার আগেই কৃষক, পশুপালক এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গেলে খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!