ঘুম আসছে না? পায়ে মোজা পরেই দেখুন!
রাতে বিছানায় যাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ ঘুম না আসা অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। এপাশ-ওপাশ করতে করতে রাত কেটে গেলেও চোখে ঘুম আসে না। এমন পরিস্থিতিতে ওষুধের দিকে না গিয়ে একটি সহজ অভ্যাস চেষ্টা করে দেখতে পারেন—ঘুমানোর আগে পায়ে আরামদায়ক একজোড়া মোজা পরা।
শুনতে কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও, ঘুমের সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পা উষ্ণ রাখলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে, যা ঘুমিয়ে পড়ার সময়কে কিছুটা কমাতে এবং ঘুমের ধারাবাহিকতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ঘুমের সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রার সম্পর্ক
ঘুমানোর প্রস্তুতির সময় মানুষের শরীর স্বাভাবিকভাবেই তার অভ্যন্তরীণ বা কোর তাপমাত্রা কমাতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়া ঘুমের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দেরই অংশ।
পা উষ্ণ রাখলে হাত-পায়ের রক্তনালি কিছুটা প্রসারিত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে ‘ভাসোডিলেশন’ বলা হয়। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরের তাপ প্রান্তীয় অংশের মাধ্যমে বাইরে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং কোর তাপমাত্রা কমার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। এতে ঘুমের জন্য শরীর প্রস্তুত হতে সুবিধা হতে পারে।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
‘জার্নাল অব ফিজিওলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজি’-তে প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় ঘুমের সময় মোজা ব্যবহারের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। গবেষণায় ছয়জন তরুণ অংশ নিয়েছিলেন।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, মোজা পরে ঘুমানোর ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীরা গড়ে প্রায় ৭ দশমিক ৫ মিনিট আগে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাদের মোট ঘুমের সময়ও প্রায় ৩২ মিনিট বেড়েছিল। পাশাপাশি রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতাও কম দেখা যায়।
গবেষণায় ঘুমের সামগ্রিক দক্ষতা প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ উন্নত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পা কতটা উষ্ণ হয়েছিল?
গবেষণার সময় মোজা ব্যবহারের ফলে অংশগ্রহণকারীদের পায়ের তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছিল। গবেষকদের মতে, পা উষ্ণ হওয়ার ফলে শরীরের তাপ বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে, যা ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।
সবার জন্য কি একই ফল মিলবে?
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—গবেষণাটি মাত্র ছয়জন তরুণের ওপর করা হয়েছিল। ফলে এই ফলাফল সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই।
তবে যাদের রাতে পা ঠান্ডা থাকে কিংবা ঠান্ডার কারণে ঘুমাতে অস্বস্তি হয়, তারা আরামদায়ক ও পরিষ্কার মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাসটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
মোজা খুব বেশি আঁটসাঁট না হওয়াই ভালো। আর পায়ে কোনো সমস্যা, রক্তসঞ্চালনজনিত জটিলতা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে এ ধরনের অভ্যাস করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সহজ অভ্যাস, হতে পারে আরামদায়ক
ঘুমের সমস্যা দূর করার জন্য নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা, ঘুমের আগে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি পা উষ্ণ রাখতে মোজা ব্যবহার কিছু মানুষের জন্য বাড়তি আরাম দিতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা থাকলে শুধু মোজার ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!