Dark Mode
Image
  • Saturday, 01 August 2026
চিনির নতুন বিকল্প ‘ট্যাগাটোজ’, কেন আশাবাদী বিজ্ঞানীরা?

চিনির নতুন বিকল্প ‘ট্যাগাটোজ’, কেন আশাবাদী বিজ্ঞানীরা?

চিনির বিকল্প হিসেবে আশার আলো ‘ট্যাগাটোজ’, যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম সুইটেনারের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠছে ‘ট্যাগাটোজ’। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি এমন একটি প্রাকৃতিক চিনি, যা সাধারণ চিনির মতোই মিষ্টি হলেও ক্যালরি অনেক কম এবং রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের জন্য এটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাগাটোজের মিষ্টতার মাত্রা সাধারণ টেবিল চিনির প্রায় ৯২ শতাংশ হলেও এতে ক্যালরি থাকে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি শরীরে ধীরে শোষিত হয়, ফলে ইনসুলিনের ওপর চাপ তুলনামূলক কম পড়ে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কয়েকটি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এমন একটি উৎপাদন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে কম খরচে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে বৃহৎ পরিসরে ট্যাগাটোজ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতদিন উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এই প্রাকৃতিক চিনির বাণিজ্যিক ব্যবহার সীমিত ছিল।

প্রাকৃতিকভাবে ট্যাগাটোজ খুব অল্প পরিমাণে কিছু ফল ও দুগ্ধজাত খাবারে পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, সাধারণ চিনি বা অনেক কৃত্রিম সুইটেনারের তুলনায় এটি স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হতে পারে, কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ট্যাগাটোজের বড় অংশ বৃহদান্ত্রে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে যায় এবং অল্প অংশ রক্তে শোষিত হয়। ফলে ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া কম থাকে। তবে যাদের ফ্রুক্টোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি গ্রহণের আগে সতর্ক থাকা উচিত।

বিজ্ঞানীদের মতে, ট্যাগাটোজ দাঁতের জন্যও তুলনামূলক নিরাপদ। সাধারণ চিনি যেখানে দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ায়, সেখানে ট্যাগাটোজ সেই জীবাণুর বিস্তার কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি মুখের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাও দেখিয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, ট্যাগাটোজ দিয়ে কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি করা সম্ভব। অনেক কৃত্রিম সুইটেনারের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যায় না।

গবেষকরা ব্যাকটেরিয়ার বিশেষ এনজাইম ব্যবহার করে গ্লুকোজকে ট্যাগাটোজে রূপান্তরের একটি নতুন প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতিতে প্রায় ৯৫ শতাংশ সফলতার সঙ্গে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, যা আগের প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে আগামী কয়েক বছরে বিশ্ববাজারে ট্যাগাটোজের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যকর মিষ্টির বিকল্প হিসেবে এটি খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

তবে গবেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ট্যাগাটোজ আশাব্যঞ্জক হলেও এটি এখনো ব্যাপকভাবে বাজারে সহজলভ্য হয়নি। তাই এটি ব্যবহারের আগে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Comment / Reply From