চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেকচার, টিউশন ফেরত চান শিক্ষার্থী
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে লেকচার, টিউশন ফি ফেরত চাইলেন শিক্ষার্থী
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট বা গবেষণায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে নানা ধরনের নীতিমালা থাকলেও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই নীতিমালা কতটা স্পষ্ট—তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি-তে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী এলা স্ট্যাপলটন একটি কোর্সের লেকচার নোট পর্যালোচনা করতে গিয়ে কিছু অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করেন। নোটে চ্যাটজিপিটির জন্য লেখা নির্দেশনা (প্রম্পট), কিছু বানানগত ভুল এবং এআই দিয়ে তৈরি করা ছবির উপস্থিতি দেখে তার সন্দেহ হয় যে, কোর্সের পাঠ্যসামগ্রী তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে।
পরে তিনি অভিযোগ করেন, কোর্সটির শিক্ষক রিক অ্যারোউড চ্যাটজিপিটি ও অন্যান্য এআই টুল ব্যবহার করে লেকচার নোট তৈরি করলেও বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জানানো হয়নি।
এলা স্ট্যাপলটনের দাবি, শিক্ষার্থীরা উচ্চ টিউশন ফি দিয়ে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের কাছ থেকে মানসম্মত ও মৌলিক শিক্ষা প্রত্যাশা করেন। অথচ শিক্ষকদের এআই-নির্ভর কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি গোপন রাখা শিক্ষার্থীদের প্রতি স্বচ্ছতার অভাব প্রকাশ করে। এই যুক্তিতে তিনি প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ টিউশন ফি ফেরতের আবেদন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান
শিক্ষার্থীর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে তদন্ত শেষে টিউশন ফি ফেরতের আবেদন নাকচ করে দেয় নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি।
অভিযুক্ত শিক্ষক রিক অ্যারোউড পরে স্বীকার করেন, তিনি চ্যাটজিপিটি, পারপ্লেক্সিটি এবং গামাসহ কয়েকটি এআই টুল ব্যবহার করেছিলেন। তবে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
এআই ব্যবহারে নৈতিকতার প্রশ্ন
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কের মূল বিষয় প্রযুক্তি ব্যবহার নয়; বরং সেই ব্যবহারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নৈতিকতা।
বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন আরোপ করলেও শিক্ষকদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়নি। ফলে একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।
অনেক শিক্ষার্থীর মত, শিক্ষকরা যদি পাঠ প্রস্তুতি বা লেকচার তৈরিতে এআই ব্যবহার করেন, তাহলে সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই জানানো উচিত। অন্যদিকে অনেক শিক্ষক মনে করেন, এআই কেবল একটি সহায়ক প্রযুক্তি, যা পাঠদানের মান আরও উন্নত করতে পারে।
নতুন বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটির মতো জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি উচ্চশিক্ষার প্রচলিত কাঠামোকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কোন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা যাবে, কোথায় সীমারেখা টানা হবে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
প্রযুক্তির এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় স্বচ্ছতা, নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!