Dark Mode
Image
  • Friday, 27 February 2026
জনপ্রিয় হেডফোনে বিপজ্জনক রাসায়নিক, সতর্ক করলেন গবেষকরা

জনপ্রিয় হেডফোনে বিপজ্জনক রাসায়নিক, সতর্ক করলেন গবেষকরা

বাজারের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হেডফোন ব্যবহার করছেন? নতুন এক ইউরোপীয় গবেষণা বলছে, দীর্ঘ সময় এসব ডিভাইস ব্যবহারে শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রবেশের ঝুঁকি থাকতে পারে। গবেষকদের দাবি, পরীক্ষায় পাওয়া কিছু উপাদান হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

কী বলছে গবেষণা?

‘ToxFree Life for All’ প্রকল্পের আওতায় ৮১টি ইন-ইয়ার ও ওভার-ইয়ার হেডফোন পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিটি নমুনাতেই এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টিং বা হরমোন-ব্যাহতকারী রাসায়নিকের উপস্থিতি রয়েছে।

পরীক্ষায় বিপিএ (Bisphenol-A) ও বিপিএস (Bisphenol-S) শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো তথাকথিত ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’, যা মানবদেহে ইস্ট্রোজেনের মতো আচরণ করতে পারে। এর ফলে বয়ঃসন্ধি আগেভাগে শুরু হওয়া, পুরুষদের হরমোন পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

কোন ব্র্যান্ডগুলো আলোচনায়?

গবেষণায় জনপ্রিয় কয়েকটি ব্র্যান্ডের হেডফোনেও এই উপাদান পাওয়া গেছে, যেমন—

Bose

Panasonic

Samsung

Sennheiser

বিশেষ করে Sennheiser Accentum True Wireless এবং Bose QuietComfort–এর কিছু মডেলে রাসায়নিকের মাত্রা ইউরোপীয় নিরাপদ সীমা ছাড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষিত হেডফোনের প্রায় ৯৮ শতাংশে বিপিএ এবং তিন-চতুর্থাংশের বেশি নমুনায় বিপিএস রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিকের মাত্রা প্রতি কেজিতে ৩১৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যেখানে European Chemicals Agency–এর নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ১০ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি।

কীভাবে ঝুঁকি তৈরি হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেডফোনের প্লাস্টিক অংশ থেকে ধীরে ধীরে রাসায়নিক বের হয়ে ত্বকের সংস্পর্শে আসতে পারে। দীর্ঘ সময় ব্যবহার এবং ঘামের কারণে এই উপাদান ত্বক দিয়ে শরীরে শোষিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

‘টক্সফ্রি লাইফ ফর অল’-এর প্রধান এমেসে গুলিয়াস ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, হরমোন-ব্যাহতকারী রাসায়নিক দ্রুত নিষিদ্ধ করে ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

কী করবেন ব্যবহারকারীরা?

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—

দীর্ঘ সময় একটানা হেডফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

ব্যবহার শেষে পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।

সম্ভব হলে নিরাপত্তা সনদযুক্ত বা কম রাসায়নিকযুক্ত পণ্য বেছে নিন।

প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও, সচেতন ব্যবহারই হতে পারে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর প্রথম ধাপ।

Comment / Reply From

You May Also Like