তরুণদের ডায়াবেটিসের নেপথ্যে জীবনযাপন
ইদানীং তরুণদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এক নীরব কিন্তু ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো আধুনিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন। এক সময় নিয়মিত হাঁটাচলা, শারীরিক পরিশ্রম ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এখন প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মানুষ দীর্ঘ সময় মোবাইল, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনের সামনে বসে থাকছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি বাড়তি ঝোঁক, যা তরুণদের শরীর ও বিপাকক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এই সমস্যাকে বলা হয় ইনসুলিন রেজিস্টেন্স। ফলে রক্তে থাকা গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে না পেরে রক্তে জমা হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ডায়াবেটিসে রূপ নেয়।
তরুণদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন রেজিস্টেন্সের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের চর্বি। এ ছাড়া পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে খাদ্যাভ্যাস। নিয়মিত ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত শর্করা ও তেলযুক্ত খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও অকারণ ওজন কমে যাওয়া। তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ ছাড়াই রোগটি ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করে, যা একে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটা, দৌড় বা ব্যায়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। খাদ্যতালিকায় শর্করা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে আঁশযুক্ত সবজি, লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার যেমন লাল চালের ভাত ও লাল আটার রুটি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি পেয়ারা, আমড়া, জাম্বুরার মতো দেশীয় ফল খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
রাত জেগে থাকা ও অনিয়মিত ঘুমও রক্তের শর্করা বাড়াতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা ইতোমধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও মানসিক চাপ কমানোই প্রথম চিকিৎসা। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে রক্ষা করতে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!