Dark Mode
Image
  • Wednesday, 01 April 2026
নেতিবাচক কনটেন্টে ডুবে আছেন? ঝুঁকিতে আপনার মস্তিষ্ক

নেতিবাচক কনটেন্টে ডুবে আছেন? ঝুঁকিতে আপনার মস্তিষ্ক

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। খবর, বিনোদন কিংবা তথ্যের খোঁজে প্রতিদিনই আমরা অনলাইনে সময় কাটাই। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—অনলাইনে আমরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখছি, তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর।


গবেষণায় যা জানা গেছে

সম্প্রতি Nature Human Behaviour-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হতাশাপূর্ণ, আক্রমণাত্মক বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট দেখেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং মানসিক চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি।

অর্থাৎ, শুধু কত সময় অনলাইনে কাটানো হচ্ছে তা নয়—কী দেখা হচ্ছে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


নেতিবাচক কনটেন্টের ‘ফিডব্যাক লুপ’

গবেষকদের মতে, বারবার একই ধরনের নেতিবাচক কনটেন্ট দেখলে এক ধরনের ‘ফিডব্যাক লুপ’ তৈরি হয়। এতে ব্যবহারকারী আরও বেশি সেই ধরনের কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম। যেমন Facebook বা YouTube ব্যবহারকারীর আগ্রহ অনুযায়ী একই ধরনের কনটেন্ট আরও বেশি দেখাতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে একজন ব্যবহারকারী নেতিবাচক কনটেন্টের একটি চক্রে আটকে যেতে পারেন।


মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

নিয়মিত নেতিবাচক কনটেন্ট দেখার ফলে—

  • উদ্বেগ (Anxiety) বৃদ্ধি পায়
  • বিষণ্নতা-র ঝুঁকি বাড়ে
  • মানসিক চাপ ও অস্বস্তি তৈরি হয়
  • বাস্তব জীবনে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা বাড়তে থাকে

কেন বেশি ছড়ায় নেতিবাচক কনটেন্ট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তেজনামূলক বা বিভাজনমূলক কনটেন্ট দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে অ্যালগরিদমও এসব কনটেন্টকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা অনিচ্ছাকৃতভাবেই বেশি নেতিবাচক বিষয়বস্তু দেখতে থাকেন।


সমাধানের পথ কী?

গবেষকরা কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন—

🔹 সচেতনভাবে কনটেন্ট বাছাই করুন
যে কনটেন্ট আপনাকে ভালো অনুভূতি দেয়, সেটিকেই প্রাধান্য দিন।

🔹 নেতিবাচক পেজ বা কনটেন্ট এড়িয়ে চলুন
প্রয়োজনে আনফলো বা মিউট করুন।

🔹 স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করুন
অপ্রয়োজনীয় সময় অনলাইনে কাটানো কমান।

🔹 অ্যালগরিদমকে প্রশিক্ষণ দিন
পজিটিভ কনটেন্টে বেশি রিঅ্যাক্ট করলে অ্যালগরিদমও সেই ধরনের কনটেন্ট দেখাবে।


শেষ কথা

ডিজিটাল দুনিয়া আমাদের জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তাই শুধু অনলাইনে থাকা নয়—কী দেখছি, তা নিয়ে সচেতন হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Comment / Reply From