Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026
প্রক্রিয়াজাত মাংস বাড়াচ্ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি: সতর্ক করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রক্রিয়াজাত মাংস বাড়াচ্ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি: সতর্ক করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

সসেজ, সালামি, হটডগ, বিফ বেকন বা মিটবলের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের কাছে এসব খাবার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্বাদ ও সহজলভ্যতার কারণে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

গবেষণায় বহু আগেই প্রমাণিত হয়েছে, নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার ফলে ক্যান্সারের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ কারণেই ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অধীনস্থ ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC) প্রক্রিয়াজাত মাংসকে ‘গ্রুপ–১ কার্সিনোজেন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই শ্রেণিতে তামাক ও অ্যাসবেস্টসের মতো নিশ্চিত ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত।

কেন ক্ষতিকর প্রক্রিয়াজাত মাংস

প্রক্রিয়াজাত মাংস দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও স্বাদ বৃদ্ধির জন্য সল্টিং, কিউরিং এবং স্মোকিংয়ের মতো রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এসব প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত নাইট্রেট ও নাইট্রাইট হজমের সময় শরীরে ‘এন-নাইট্রোসো কম্পাউন্ড’ নামের ক্যান্সার সৃষ্টিকারী যৌগ তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া এসব খাবারে লবণের পরিমাণ অত্যধিক হওয়ায় উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। আবার উচ্চ তাপে ভাজার সময় হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস (HCAs) নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়, যা কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ক্যান্সারের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে অন্ত্র বা কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি অগ্ন্যাশয় ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের সঙ্গেও প্রক্রিয়াজাত মাংসের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে ক্যান্সারের প্রকোপ আরও দ্রুত বাড়তে পারে, বাড়ে মৃত্যুঝুঁকিও।

সতর্কতা ও করণীয়

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রক্রিয়াজাত মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা বা বিশেষ উপলক্ষ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই উত্তম। এর পরিবর্তে টাটকা মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, মটরশুঁটি বা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গ্রহণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি ফাইবারসমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা শিশুদের টিফিনে সসেজ বা নাগেটসের বদলে ঘরে তৈরি তাজা খাবার দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সুস্থ থাকতে চাইলে জিহ্বার স্বাদের চেয়ে দেহের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Comment / Reply From