Dark Mode
Image
  • Saturday, 28 March 2026
বছরজুড়ে বাজার দখলে কাটিমন আম: চাষে বাড়ছে সম্ভাবনা

বছরজুড়ে বাজার দখলে কাটিমন আম: চাষে বাড়ছে সম্ভাবনা

বাংলাদেশে আম মানেই গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফল, তবে সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে চাষাবাদের ধরণ। এখন মৌসুমের গণ্ডি পেরিয়ে বারোমাসি আমের চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কাটিমন আম, যা স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও বাজারমূল্যের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কাটিমন আম মূলত থাইল্যান্ড থেকে আনা একটি উন্নত জাতের আম। ‘সুইট কাটিমন’ নামেও পরিচিত এই ফলটি স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি এবং প্রায় আঁশবিহীন হওয়ায় ভোক্তাদের কাছে এর চাহিদা বেশি। বাংলাদেশে অনেক জায়গায় এটিকে ‘অমৃত আম’ বলেও ডাকা হয়।

দেশীয় আমের মৌসুমের বাইরে সারা বছর উৎপাদন হওয়ায় কাটিমন আম বাজারে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারেই প্রতি কেজি কাটিমন আম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এই আমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায় এর চাষ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির কারণে সেখানে ফলনও ভালো হচ্ছে।

কাটিমন আম গাছে বছরে তিনবার মুকুল আসে—ফেব্রুয়ারি, মে ও নভেম্বর মাসে। সেই অনুযায়ী মার্চ-এপ্রিল, মে-জুন এবং জুলাই-আগস্টে ফল সংগ্রহ করা যায়। তবে দেশীয় আমের মৌসুমে প্রতিযোগিতা এড়াতে অনেক কৃষক ফেব্রুয়ারির মুকুল ভেঙে দেন, যাতে অফ-সিজনে ভালো দামে আম বিক্রি করা যায়।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে এই আমের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়। তখন প্রতি হেক্টরে প্রায় ৬ থেকে ৭ টন আম পাওয়া যায়। অন্যদিকে মার্চ-এপ্রিল সময়ে ফলন তুলনামূলক কম, যা ২ থেকে ৩ টনের মধ্যে থাকে।

প্রতিটি কাটিমন আমের ওজন সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। থোকায় থোকায় ফল ধরে, যেখানে একেকটি থোকায় পাঁচ থেকে ছয়টি আম থাকে—যা এই জাতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

চাষের ক্ষেত্রে পলিযুক্ত বেলে দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। মাটির পিএইচ ৬ থেকে ৭ হলে গাছ ভালো বৃদ্ধি পায়। যেহেতু এটি বিদেশি জাত, তাই নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে মুকুল আসার সময় কীটনাশক ও বালাইনাশক সঠিকভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।

চারা রোপণের ক্ষেত্রে প্রতি ছয় ফুট বাই পাঁচ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। গাছ লাগানোর দুই বছরের মধ্যেই ফলন পাওয়া শুরু হয় এবং একবার লাগানো গাছ থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, উচ্চ ফলন, সারা বছর উৎপাদন এবং বাজারে ভালো দামের কারণে কাটিমন আম এখন দেশের কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি ফসলে পরিণত হয়েছে।

Comment / Reply From