বিশুদ্ধ পানির সংকটেই সুযোগ: যেভাবে গড়ে তুলবেন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট
মানুষ খাদ্য ছাড়া কিছুদিন বাঁচতে পারলেও পানি ছাড়া বাঁচা অসম্ভব। অথচ শহরাঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরাসরি পানযোগ্য নয়। ফলে শহরের মানুষ বাধ্য হয়ে পানি ফুটানো, ফিল্টার মেশিন কিংবা বোতলজাত ও জারের পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
নগরমুখী মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা। এই বাস্তবতায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন হতে পারে একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক ব্যবসা উদ্যোগ।
কী পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন
একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনে তিন থেকে চার কাঠা জায়গাই যথেষ্ট। বিএসটিআইয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি মানসম্মত প্লান্ট করতে প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
এই ব্যবসা শুরু করতে যেসব অনুমোদন ও সনদ লাগবে—
* ট্রেড লাইসেন্স
* টিআইএন সার্টিফিকেট
* ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন
* ইনকরপোরেশন সার্টিফিকেট
* ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন
* বিএসটিআই সার্টিফিকেট
* আইসিডিডিআরবি সার্টিফিকেট
যেভাবে শুরু করবেন
প্রথমে পানি সংরক্ষণের জন্য একটি রিজার্ভ ট্যাংক তৈরি করতে হবে। ওয়াসার সংযোগ না থাকলে সাবমার্সিবল পাম্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে হবে। এরপর স্থাপন করতে হবে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, যেখানে বিভিন্ন ফিল্টারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানিকে নিরাপদ ও পানযোগ্য করে তোলা হয়।
পানির মান যাচাইয়ের জন্য একটি ল্যাব স্থাপন করা বাধ্যতামূলক। প্রতিদিন পানির গুণগত মান পরীক্ষার জন্য একজন ফুলটাইম কেমিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। বিএসটিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্লান্টের ভেতর টাইলস বসানো এবং সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
পানি বিশুদ্ধকরণের প্রক্রিয়া
স্টোরেজ ট্যাংক থেকে পানি প্রথমে ম্যাঙ্গানিজ সিলিন্ডারে প্রবাহিত হয়, যেখানে আয়রন দূর করা হয়। এরপর কার্বন ফিল্টারের মাধ্যমে ময়লা ও দুর্গন্ধ দূর করে রেজিন সিলিন্ডারে পাঠানো হয়। সেখানে পানির প্রয়োজনীয় মাত্রা ঠিক করে জারে সংরক্ষণ করা হয়।
বাজারজাতকরণ কৌশল
আপনি চাইলে কেবল পানি বিশুদ্ধকরণ করে বিভিন্ন পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন। আবার চাইলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জারের পানি সরবরাহও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পরিবেশকের ট্রেড লাইসেন্স, সংরক্ষণাগার এবং নাম-ঠিকানা সংবলিত প্যাড থাকতে হবে।
স্থানীয় অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড দোকান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও চায়ের দোকানগুলোই হতে পারে আপনার প্রধান গ্রাহক।
আয়-রোজগারের সম্ভাবনা
পানি বিশুদ্ধকরণ ও সরবরাহ—এই দুই কার্যক্রম একসঙ্গে করলে লাভ তুলনামূলক বেশি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে আনুমানিক ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তবে এর জন্য পানির মান, সময়মতো ডেলিভারি ও গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!