মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি কমানোর ৭ উপায়
খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, ঝুঁকি কমাতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়
অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অজানা সঙ্গী। খাবার, পানীয় পানি এমনকি বাতাসের মাধ্যমেও এই সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান সময়ে মাইক্রোপ্লাস্টিককে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। তবে কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে এর সংস্পর্শ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমতে থাকলে কোষের ক্ষতি, প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও বিস্তৃত গবেষণা চলছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
যেভাবে কমাবেন মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি
১. বিশুদ্ধ ও ফিল্টার করা পানি পান করুন
টিউবওয়েল, বোতলজাত কিংবা অন্যান্য উৎসের পানিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। তাই উন্নতমানের পানি পরিশোধক ব্যবহার করে ফিল্টার করা পানি পান করার চেষ্টা করুন। এটি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার একটি অংশ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
২. প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান
প্লাস্টিক মোড়কে সংরক্ষিত খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষ করে গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে রাখলে প্লাস্টিক কণা খাবারে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই যতটা সম্ভব তাজা ও ঘরে রান্না করা খাবার বেছে নিন।
৩. প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন
খাবার সংরক্ষণ, পরিবেশন বা গরম করার জন্য প্লাস্টিকের বদলে কাচ, স্টেইনলেস স্টিল বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন। এতে খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিক কণা মিশে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
৪. একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন
প্লাস্টিকের গ্লাস, স্ট্র, প্লেট, চামচ কিংবা খাদ্যবাহী প্যাকেটের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে আনুন। এগুলো সহজেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পরিবেশ ও খাদ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে।
৫. পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও প্রাকৃতিক কাপড় ব্যবহার করুন
বাজারে গেলে প্লাস্টিকের ব্যাগের বদলে কাপড় বা চটের ব্যাগ ব্যবহার করুন। পাশাপাশি সুতি, লিনেন বা উলের পোশাক ব্যবহারে কৃত্রিম তন্তু থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমে।
৬. সামুদ্রিক খাবার বেছে খেতে সচেতন হোন
সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের কারণে অনেক মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তাই বিশ্বস্ত উৎস থেকে সামুদ্রিক খাবার কিনুন এবং খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য বজায় রাখুন।
৭. প্রসাধনী কেনার আগে উপাদান পরীক্ষা করুন
টুথপেস্ট, ফেস স্ক্রাব বা কিছু কসমেটিকসে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ব্যবহার করা হতে পারে। তাই কেনার আগে লেবেল দেখে পলিথিন (Polyethylene), পলিপ্রপিলিন (Polypropylene) বা অনুরূপ প্লাস্টিক উপাদান রয়েছে কি না যাচাই করুন।
কেন এখনই সচেতন হওয়া জরুরি?
মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে এর সংস্পর্শ অনেকটাই কমানো যায়। নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ, কম প্লাস্টিক ব্যবহার, বিশুদ্ধ পানি পান এবং সচেতনভাবে পণ্য নির্বাচন করলে নিজের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!