ম্যাচের আগে মেসির গোপন প্রস্তুতি জানেন?
লিওনেল মেসি মাঠে নামলেই যেন ফুটবলের এক অনন্য শিল্পের প্রদর্শনী। চোখধাঁধানো ড্রিবল, নিখুঁত পাস কিংবা মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া গোল—এসব দেখে অনেকেই মনে করেন, সবই জন্মগত প্রতিভার ফল। তবে বাস্তবতা হলো, মেসির সাফল্যের পেছনে প্রতিভার পাশাপাশি রয়েছে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, পরিকল্পিত অনুশীলন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
শৈশবে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতিতে ভোগা মেসিকে ক্যারিয়ারজুড়ে একাধিক চোটের সঙ্গেও লড়তে হয়েছে। কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ফিটনেস ট্রেনিং এবং শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন তাঁকে দীর্ঘদিন বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।
ম্যাচের আগে কী খান মেসি?
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, পিৎজা এবং আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ভাজা খাবার ‘মিলানেসা’ ছিল মেসির প্রিয়। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘদিন খেলতে হলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনা জরুরি।
২০১৪ সালে ইতালীয় পুষ্টিবিদ জিউলিয়ানো পোজেরের সঙ্গে কাজ শুরু করার পরই বদলে যায় তাঁর ডায়েট। বর্তমানে মেসির খাদ্যতালিকার মূল ভিত্তি—
- প্রচুর পানি
- অলিভ অয়েল
- গোটা শস্য (হোল গ্রেইন)
- তাজা ফল
- তাজা সবজি
এসব খাবার শরীরের প্রদাহ কমাতে, শক্তি ধরে রাখতে এবং পেশি দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
যে খাবারগুলো প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন
পুষ্টিবিদদের পরামর্শে মেসি অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত ময়দা প্রায় পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন। কারণ এগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া তিনি লাল মাংসও অনেক কম খেয়ে থাকেন। ম্যাচের আগে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে তিনি প্রোটিন শেক পান করেন এবং সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখেন।
কোমল পানীয় নয়, পছন্দ ইয়ারবা মাতে
একসময়ের কোমল পানীয়ের বদলে এখন মেসির পছন্দ দক্ষিণ আমেরিকার জনপ্রিয় ভেষজ পানীয় ইয়ারবা মাতে। এতে প্রাকৃতিক ক্যাফেইন থাকায় এটি শক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
খাদ্যাভ্যাসে এই পরিবর্তনের ফলে বড় ম্যাচের আগে যে বমি বমি ভাব তাঁকে ভোগাত, সেটিও অনেকটাই কমে গেছে।
বর্তমানে ইন্টার মায়ামিতে খেললেও তিনি ক্লাবের পুষ্টিবিদদের পরামর্শ মেনেই খাদ্যতালিকা অনুসরণ করেন। ম্যাচ শেষে দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে সাধারণত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন সুশি বা পাস্তা সালাদ খেয়ে থাকেন।
ভারী জিম নয়, গুরুত্ব দেন গতি ও ভারসাম্যে
অন্যান্য অনেক ফুটবলারের মতো ভারী ওজন তোলার অনুশীলনে মেসির তেমন আগ্রহ নেই। তাঁর প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য—
- গতি বৃদ্ধি
- কার্যকর শক্তি অর্জন
- শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখা
নিয়মিত স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমে তিনি পেশিকে নমনীয় রাখেন, যা চোটের ঝুঁকি কমায়।
যেসব অনুশীলন করেন
মেসির অনুশীলন সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত।
প্রথম ধাপে থাকে গতি বাড়ানোর ব্যায়াম, যেমন—
- পিলার ব্রিজ
- নি হাগ লাঞ্জ
- হার্ডল হপ
- স্প্লিট স্কোয়াট জাম্প
দ্বিতীয় ধাপে থাকে দ্রুত দিক পরিবর্তন ও ভারসাম্য উন্নত করার অনুশীলন, যেমন—
- পার্শ্বমুখী লাফ
- থ্রি হার্ডল ড্রিল
- মিরর ড্রিল
মৌসুম চলাকালে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন তিনি এসব অনুশীলন করে থাকেন।
ছোট গড়নই তাঁর বড় শক্তি
মেসির উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৬৭ কেজি। ছোট গড়নের কারণে তাঁর শরীরের ভরকেন্দ্র নিচে থাকে, ফলে প্রতিপক্ষের চাপেও সহজে ভারসাম্য হারান না। দ্রুত দিক পরিবর্তন এবং অসাধারণ ড্রিবলিং দক্ষতার পেছনে এটিও বড় একটি কারণ।
শুধু প্রতিভা নয়, নিয়মানুবর্তিতাই সাফল্যের চাবিকাঠি
লিওনেল মেসির সাফল্যের পেছনে শুধু অসাধারণ প্রতিভাই নয়, রয়েছে বছরের পর বছর ধরে মেনে চলা কঠোর শৃঙ্খলা। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত অনুশীলন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীরের প্রতি সচেতন যত্ন—এই চারটি বিষয়ই তাঁকে আজও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে শীর্ষে ধরে রেখেছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!