Dark Mode
Image
  • Sunday, 23 August 2026
রাতে কোরআন তিলাওয়াত কেন গুরুত্বপূর্ণ? জেনে নিন ফজিলত

রাতে কোরআন তিলাওয়াত কেন গুরুত্বপূর্ণ? জেনে নিন ফজিলত

দিনের ব্যস্ততার পর রাতের নীরব সময় একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতের বিশেষ সুযোগ। নামাজ, জিকির ও দোয়ার পাশাপাশি রাতে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতে কাটানোও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। কোরআন ও হাদিসে রাতের ইবাদত এবং তিলাওয়াতের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং রাতের একাংশেও তুমি তাঁর তাসবিহ পাঠ করো এবং নামাজের পরও।’ (সুরা ক্বাফ, আয়াত: ৪০)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘রাতের একাংশে তাঁর উদ্দেশে সিজদা করো এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবিহ পাঠ করো।’ (সুরা দাহর, আয়াত: ২৬)

রাতের ইবাদতের বিশেষ মর্যাদা

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে রাতের ইবাদতে উৎসাহিত করেছেন। বেলাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, রাতের ইবাদত পূর্ববর্তী নেককার বান্দাদের নিয়মিত আমল ছিল। এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম, গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং পাপ মোচনের কারণ হয়। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৪৯)

রাতের ইবাদত বলতে শুধু নফল নামাজ বোঝায় না। এ সময় কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়াতেও মনোযোগ দেওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে রাতের নামাজে দাঁড়িয়ে ধীরে ও স্পষ্টভাবে কোরআন পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে বস্ত্রাবৃত! রাতে নামাজে দাঁড়াও... এবং ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে কোরআন পাঠ করো।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ১-৪)

কিয়ামতের দিন কোরআন করবে সুপারিশ

রাতে কোরআন তিলাওয়াতের অন্যতম বড় ফজিলত হলো—কিয়ামতের দিন কোরআন মুমিনের পক্ষে সুপারিশ করবে।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রোজা ও কোরআন উভয়ই কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, সে আমার কারণে পানাহার থেকে বিরত ছিল। আর কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম। এরপর উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৬৬২৬)

কোরআনপ্রেমী মানুষের মর্যাদা

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুই ধরনের মানুষের প্রতি ঈর্ষা করা বৈধ—তাদের একজন হলেন সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ কোরআনের জ্ঞান দিয়েছেন এবং তিনি দিন-রাত তা তিলাওয়াত করেন।

তার তিলাওয়াত শুনে অন্যরা যদি এমন জ্ঞান ও আমল লাভের আকাঙ্ক্ষা করেন, সেটি প্রশংসনীয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭৩৮)

এ থেকে বোঝা যায়, কোরআন শেখা, তা নিয়মিত পাঠ করা এবং জীবনে তার শিক্ষা বাস্তবায়নের মর্যাদা ইসলামে অত্যন্ত বেশি।

১০০ আয়াত তিলাওয়াতের ফজিলত

রাতে কোরআন তিলাওয়াতের আরেকটি বিশেষ ফজিলত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করবে, তাকে উদাসীনদের তালিকায় লেখা হবে না। (আবু দাউদ, হাদিস: ১৩৯৮)

তাই দীর্ঘ সময় বের করতে না পারলেও প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট কিছু আয়াত বা একটি সুরা তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

সাহাবিদের রাতের কোরআন তিলাওয়াত

সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও রাতের কোরআন তিলাওয়াতের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। এক সফরে আশআরি সাহাবিদের একটি দল রাতে নিজেদের তাঁবুতে কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁদের তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের চিনতে পেরেছিলেন এবং তাঁদের তিলাওয়াতের প্রশংসা করেছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪২৩২)

হজরত উসমান (রা.)-এর রাতের ইবাদতের কথাও ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়। তাঁর স্ত্রী নায়েলা বিনতে ফারাফেসা উল্লেখ করেছিলেন, তিনি এক রাকাতে দীর্ঘ সময় কিয়াম করে কখনো পুরো কোরআন তিলাওয়াত করতেন। (ফাজায়েলে কোরআন: ১/৩৫১)

রাতের নীরবতা কাজে লাগুক কোরআনের জন্য

রাতের নিরিবিলি পরিবেশ মনোযোগ দিয়ে কোরআন পড়ার জন্য উপযোগী। দিনের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে দূরে এই সময়টুকু ইবাদতে ব্যয় করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়।

তাই প্রতিদিনের রুটিনে অল্প সময় হলেও কোরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। নিয়মিত আমলই ধীরে ধীরে বড় অভ্যাসে পরিণত হয়। মহান আল্লাহ আমাদের কোরআন শেখা, বোঝা, তিলাওয়াত করা এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Comment / Reply From