Dark Mode
Image
  • Sunday, 23 August 2026
১৬ বছরেই ২৭৫ কেজি! বিশেষ অস্ত্রোপচারে ৫০ কেজি ওজন কমল কিশোরের

১৬ বছরেই ২৭৫ কেজি! বিশেষ অস্ত্রোপচারে ৫০ কেজি ওজন কমল কিশোরের

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ওজন ২৭৫ কেজির বেশি। অতিরিক্ত মেদে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা তো দূরের কথা, তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছিল কিশোরটি। ঘুমের মধ্যেও শ্বাস বন্ধ হয়ে আসত। এমন জটিল অবস্থায় দিল্লির চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত বিশেষ ধরনের বেরিয়াট্রিক সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের পর মাত্র দুই মাসে প্রায় ৫০ কেজি ওজন কমেছে তার।

শ্বাসকষ্ট ও নানা জটিলতায় বিপর্যস্ত জীবন

দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ওই কিশোরের ওজন ছিল ২৭৫ কেজিরও বেশি। তার বিএমআই ১০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা অত্যন্ত গুরুতর মাত্রার স্থূলতার ইঙ্গিত দেয়।

অতিরিক্ত ওজনের কারণে কিশোরটি অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, সারাক্ষণ শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণেও ভুগছিল সে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাকে সাধারণভাবে গাড়িতে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে।

চিকিৎসকদের মতে, এত বেশি মাত্রার স্থূলতা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। হৃদ্‌যন্ত্র ও লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গে জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

কেন অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিলেন চিকিৎসকেরা?

স্বাভাবিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের মাধ্যমে এতটা গুরুতর স্থূলতার ক্ষেত্রে দ্রুত ওজন কমানো কঠিন হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা বেরিয়াট্রিক সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন।

কিশোরটির ক্ষেত্রে করা হয় ল্যাপারোস্কোপিক স্লিভ গ্যাস্ট্রেক্টমি। এটি বেরিয়াট্রিক সার্জারির একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি, যেখানে পাকস্থলীর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করে দেওয়া হয়।

কীভাবে কাজ করে স্লিভ গ্যাস্ট্রেক্টমি?

এই অস্ত্রোপচারে পাকস্থলীর একটি বড় অংশ অপসারণ করা হয়। কিশোরটির ক্ষেত্রে পাকস্থলীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। অবশিষ্ট পাকস্থলীটি সরু নলের মতো আকার ধারণ করে।

পাকস্থলীর ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে রোগী আগের মতো একবারে বেশি খাবার খেতে পারেন না। অল্প খাবারেই পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় এবং ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে।

এটি লাইপোসাকশনের মতো কেবল শরীরের বাইরে জমে থাকা চর্বি সরানোর প্রসাধনী পদ্ধতি নয়। বরং খাদ্য গ্রহণ ও শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

দুই মাসে কমেছে প্রায় ৫০ কেজি

অস্ত্রোপচারের পর কিশোরটির ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে প্রায় ৫০ কেজি ওজন কমে বর্তমানে তার ওজন প্রায় ২২৩ কেজি।

তবে অস্ত্রোপচার করলেই চিকিৎসা শেষ নয়। বেরিয়াট্রিক সার্জারির পর রোগীকে দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। খাবারের পরিমাণ ও ধরন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করতে হয়।

অস্ত্রোপচারের পরও সতর্কতা জরুরি

বেরিয়াট্রিক সার্জারির পর শরীর আগের তুলনায় কম খাবার গ্রহণ করতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হয়।

চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর স্থূলতার চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই অতিরিক্ত ওজনের ক্ষেত্রে নিজে থেকে কঠোর ডায়েট বা ওজন কমানোর কোনো পদ্ধতি অনুসরণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Comment / Reply From