Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026
রান্নাঘরের ভুলেই বাড়ছে কোলেস্টেরল

রান্নাঘরের ভুলেই বাড়ছে কোলেস্টেরল

কোলেস্টেরল—এই শব্দটির সঙ্গে এখন প্রায় সবাই পরিচিত। তবে অনেকেই জানেন না, কোলেস্টেরল সব সময় ক্ষতিকর নয়। শরীরে ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) যেমন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে ও ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে, তেমনি খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) ধমনিতে জমে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসকে দায়ী করা হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—রান্নার কিছু দৈনন্দিন ভুলও কোলেস্টেরল বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে বাড়িতে যদি হার্টের রোগী বা উচ্চ কোলেস্টেরলে ভোগা কেউ থাকেন, তাহলে রান্নার সময় আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন রান্নার অভ্যাস কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে।

অতিরিক্ত তেলের ব্যবহার
শরীরের জন্য চর্বি প্রয়োজন হলেও তা হতে হবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। প্রতিদিনের রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে হজমের সমস্যা যেমন হয়, তেমনি বাড়ে খারাপ কোলেস্টেরলও। চিকিৎসকদের মতে, যত কম তেল ব্যবহার করা যায় ততই ভালো। অলিভ অয়েল বা বাদামের মতো উৎস থেকে পরিমিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট নেওয়া যেতে পারে।

নিয়মিত ভাজাভুজি খাওয়া
অনেকেই মনে করেন, বাইরে না খেয়ে বাড়িতে ভাজা খাবার খেলেই সমস্যা নেই। কিন্তু প্রতিদিন বেগুনি, পেঁয়াজু বা অন্যান্য ভাজাপোড়া খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তাদের জন্য নিয়মিত ভাজা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। বিশেষ প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে খাওয়া যেতে পারে।

খাবারে ফাইবারের ঘাটতি
ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি রক্তে এলডিএল শোষণে বাধা দেয়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ডাল, ওটস, রাগি, ডালিয়া ইত্যাদি রাখা জরুরি। ফাইবারের অভাব থাকলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

লবণ ও চিনি অতিরিক্ত ব্যবহার
স্বাদের জন্য লবণ ও চিনি দরকার হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে বেশি চিনি খাওয়া কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। লবণ অবশ্যই পরিমিত খেতে হবে—পুরোপুরি বাদ দিলে সোডিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

খাবার বারবার গরম করা
ভাজা বা তেলযুক্ত খাবার বারবার গরম করলে জমে থাকা তেল আরও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এতে ধমনিতে ফ্যাট জমার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই একবার রান্না করা ভাজাভুজি খাবার বারবার গরম না করাই ভালো।

সচেতন রান্নার অভ্যাসই পারে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে।

Comment / Reply From