লুপাস: নীরবে কিডনি নষ্ট করে যে রোগ
বিশ্বজুড়ে কিডনি বিকলের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ধরা হয় লুপাস বা সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমাটোসাস (SLE) রোগকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লুপাসে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক রোগী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কিডনিজনিত জটিলতায় ভোগেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর অবস্থা এতটাই গুরুতর হয়ে পড়ে যে শেষ পর্যন্ত ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়।
লুপাসের কারণে যখন কিডনিতে প্রদাহ তৈরি হয়, তখন সেই অবস্থাকে বলা হয় ‘লুপাস নেফ্রাইটিস’। প্রতি বছর ১০ মে বিশ্ব লুপাস দিবস পালনের মাধ্যমে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
লুপাস কী?
লুপাস একটি অটোইমিউন রোগ। অর্থাৎ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের শরীরের সুস্থ কোষ ও টিস্যুকেই আক্রমণ করতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই রোগ মাথার চুল থেকে শুরু করে ত্বক, জয়েন্ট, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত অল্পবয়সী নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়স ও লিঙ্গের মানুষ লুপাসে আক্রান্ত হতে পারেন।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
লুপাসে কিডনি আক্রান্ত হওয়ার শুরুতে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে এটি ধরা পড়ে।
তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন—
- প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া
- প্রস্রাবের রং পরিবর্তন
- মুখ ও চোখ ফুলে যাওয়া
- প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ কিডনিতে প্রদাহ বা ক্ষতির ইঙ্গিত হতে পারে।
কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
লুপাস নেফ্রাইটিস শনাক্ত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রস্রাব পরীক্ষা। এতে প্রস্রাবে আমিষ, রক্তকণিকা বা অন্যান্য অস্বাভাবিক উপাদান শনাক্ত করা যায়।
এ ছাড়া—
- ক্রিয়েটিনিন ও জিএফআর পরীক্ষা কিডনির কার্যক্ষমতা বোঝাতে সাহায্য করে
- সি-থ্রি, সি-ফোর ও অ্যান্টি-ডিএস ডিএনএ টেস্ট রোগ নির্ণয়ে সহায়ক
- কিডনি বায়োপসি লুপাস নেফ্রাইটিসের ধরণ ও মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
বিশেষজ্ঞরা জানান, বায়োপসির রিপোর্ট অনুযায়ী রোগটিকে ১ থেকে ৬ ধাপে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
চিকিৎসায় কী করা হয়?
গত কয়েক বছরে লুপাস নেফ্রাইটিসের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। সাধারণত উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড ও ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের অতিরিক্ত প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগের কোনো শতভাগ নিরাময় নিশ্চিত করা যায় না। রোগীর অবস্থা বুঝে ধীরে ধীরে ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করতে হয়।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ও অন্যান্য ওষুধ ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকায় নিয়মিত ফলোআপ ও পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!