শিশু পানিতে ডুবে গেলে এই কাজগুলো করুন দ্রুত
বর্ষা মৌসুমে শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। পুকুর, ডোবা, খাল, নদী এমনকি বাড়ির আশপাশে জমে থাকা অল্প পানিতেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৬টি শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। তাই এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া শিশুর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পানিতে ডুবে গেলে শিশুর শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ফুসফুসে অক্সিজেন পৌঁছানো ব্যাহত হয়। সময়মতো উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা না পেলে হৃদ্যন্ত্রও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিটি অভিভাবকের পানিতে ডুবে যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ ও জরুরি করণীয় সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।
পানিতে ডুবে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা অনিয়মিত শ্বাসপ্রশ্বাস।
- একটানা বা তীব্র কাশি।
- বমি বা বমি বমি ভাব।
- মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া।
- ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।
- ঠোঁট ও নখ নীলচে হয়ে যাওয়া।
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়া।
- বুক ধড়ফড়, বুকব্যথা বা চাপ অনুভব করা।
তাৎক্ষণিক যা করবেন
- আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আশপাশের মানুষের সাহায্য নিন।
- শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে পানির বাইরে তুলে আনুন।
- ভেজা কাপড় খুলে শুকনো কাপড় বা চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে দিন।
- নাক ও মুখে কাদা, বালি বা অন্য কিছু থাকলে পরিষ্কার করুন।
- শিশুটি শ্বাস নিচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।
শ্বাস না থাকলে কী করবেন?
- যদি শিশুর শ্বাস না থাকে, তাহলে দ্রুত কৃত্রিম শ্বাস (Rescue Breathing) ও সিপিআর (CPR) শুরু করুন।
- প্রথমে দুটি কৃত্রিম শ্বাস দিন।
- এরপর ৩০ বার বুকে চাপ (Chest Compression) দিন।
- প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলে সিপিআর চালিয়ে যান এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
দ্রষ্টব্য: সিপিআর সঠিকভাবে দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে প্রয়োগ করলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
যা কখনো করবেন না
- পানি বের করার জন্য শিশুর পেটে চাপ দেবেন না।
- শিশুকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখবেন না।
- অযথা সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
কেন দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি?
- শিশুর অবস্থা স্বাভাবিক মনে হলেও ফুসফুসে পানি প্রবেশের কারণে পরে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
- চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হলে সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করা সম্ভব হয়।
দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয়
- শিশুদের কখনো পানির আশপাশে একা রাখবেন না।
- পুকুর, ডোবা বা জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
- ছোট শিশুদের সবসময় প্রাপ্তবয়স্কের নজরদারিতে রাখুন।
- শিশুদের সাঁতার শেখাতে উৎসাহিত করুন।
- পরিবারে অন্তত একজন সদস্যকে সিপিআর প্রশিক্ষণ নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!