সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে অপসারণ করা হলো প্রায় ৫০ মণ বর্জ্য
দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনে পৌঁছালেও দ্বীপের প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল হতাশাজনক। জেটিঘাটে নামতেই প্লাস্টিক পোড়ানোর তীব্র গন্ধ আর চোখে পড়ে আবর্জনা পোড়ানোর দৃশ্য। পর্যটকশূন্য সময়ের পর দ্বীপটি পরিচ্ছন্ন থাকবে—এমন আশা নিয়েই এসেছিলাম, কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র উপকূল পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন **কেওক্রাডং বাংলাদেশ** ৪ ও ৫ ডিসেম্বর সেন্ট মার্টিনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সংগঠনটি দ্বীপটিতে নিয়মিত এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এবারের অভিযানে অংশ নেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন সার্ফার, ইউনিলিভার বাংলাদেশের ২ জন কর্মকর্তা এবং কেওক্রাডং বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবীরা। সব মিলিয়ে অংশ নেন **৫৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী**।
দ্বীপে পৌঁছেই দেখা যায়, সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য, খাদ্যপণ্যের মোড়ক ও পরিত্যক্ত জাল। কোথাও আবার নৌকার কাজে ব্যবহৃত টায়ার পোড়ানো হচ্ছে, যা দ্বীপের আকাশকে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে দিচ্ছে।
৫ ডিসেম্বর সকাল সাতটায় সেন্ট মার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও কিশোরদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় মূল পরিচ্ছন্নতা অভিযান। অংশগ্রহণকারীদের ৩৫টি দলে ভাগ করা হয়। হাতে গ্লাভস ও চটের বস্তা নিয়ে তারা দ্বীপের বিভিন্ন অংশে আবর্জনা সংগ্রহ শুরু করেন। বেলা তিনটা পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম।
সংগ্রহ করা বর্জ্য জেটিঘাট এলাকায় এনে আলাদা করা হয়। এর মধ্যে ছিল প্লাস্টিক বোতল, ঢাকনা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী, চিপস–বিস্কুটের প্যাকেট, প্লাস্টিক ব্যাগ ও মাছ ধরার পরিত্যক্ত জাল। সব মিলিয়ে সংগৃহীত বর্জ্যের ওজন দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৮৫০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৫০ মণ। এসব বর্জ্য পরে বস্তায় ভরে টেকনাফে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের পরিচালক শামিমা আক্তার বলেন, প্লাস্টিক প্যাকেজিং প্রয়োজনীয় হলেও এর পরিবেশগত প্রভাব কমাতে পুনর্ব্যবহার ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি। পরিবেশ থেকে বাজারে দেওয়া প্লাস্টিকের চেয়ে বেশি প্লাস্টিক অপসারণের লক্ষ্যে ইউনিলিভার কাজ করছে।
কেওক্রাডং বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মুনতাসির মামুন বলেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য শুধু আবর্জনা পরিষ্কার নয়, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। তাঁর ভাষায়, “১২ হাজার মানুষের একটি দ্বীপে হাজার হাজার পর্যটক এলে সমস্যা নেই, কিন্তু দায়িত্বশীল আচরণ না থাকলে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পক্ষে বর্জ্য সামলানো অসম্ভব।” তিনি জানান, বিগত বছরগুলোতে সেন্ট মার্টিন থেকে প্রায় ২৫ হাজার কেজি বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব নতুন করে মনে করিয়ে দিল।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!