স্বাদের ফাঁদে ‘সাদা বিষ’? টেস্টিং সল্ট নিয়ে যা জানা জরুরি
বাসায় অতিথি এলে খাবারের আয়োজন একটু বেশি মুখরোচক করতেই অনেকেই রান্নায় যোগ করেন所谓 টেস্টিং সল্ট। খেতে সুস্বাদু হলেও আপনি কি জানেন—এই টেস্টিং সল্ট নামে পরিচিত উপাদানটি বিজ্ঞানের ভাষায় কোনো খাবারই নয়?
টেস্টিং সল্ট আসলে কী?
বিজ্ঞানের ভাষায় টেস্টিং সল্টের নাম মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (Monosodium Glutamate – MSG)। এটি একটি রাসায়নিক যৌগ, যা ১৯০৩ সালে জাপানে আবিষ্কৃত হয়। এর নিজস্ব কোনো স্বাদ নেই; বরং এটি খাবারের প্রাকৃতিক স্বাদকে অতিরঞ্জিত করে তোলে।
কেন এটিকে ‘সাদা বিষ’ বলা হয়?
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ও অতিরিক্ত মাত্রায় MSG গ্রহণ করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞ একে ‘সাদা বিষ’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। কারণ—
-
স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে
-
দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে
-
মাথাব্যথা, বমিভাব, ঘুমের সমস্যা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস ঘটতে পারে
কোথায় বেশি ব্যবহার হয়?
সাধারণত সব খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয় না।
বিশেষ করে—
-
মাংসজাতীয় খাবার
-
ফাস্টফুড
-
চাইনিজ রেস্টুরেন্টের অধিকাংশ পদে
এই উপাদানটি বেশি ব্যবহার করা হয়, শুধুমাত্র স্বাদ বাড়ানোর জন্য।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন,
টেস্টিং সল্ট অতিরিক্ত ব্যবহার করলে কিডনি, লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক দেশেই এর ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ হলেও আমাদের দেশে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর পরামর্শ—খাবারে টেস্টিং সল্টের বদলে আয়োডাইজড লবণ ব্যবহার করা উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার-এর মতে, নিয়মিত MSG গ্রহণে দেখা দিতে পারে—
-
মাথাব্যথা ও বমিবমি ভাব
-
বুকের ব্যথা ও দুর্বলতা
-
গলায় জ্বালা ও অতিরিক্ত পিপাসা
-
অনিদ্রা, কাজের অনীহা
-
হার্ট, কিডনি এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি
সিদ্ধান্ত আপনার
স্বাদ বাড়ানোর লোভে আমরা কি অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনছি?
ভাবুন তো—আপনি আপনার প্রিয় মানুষকে মুখরোচক খাবার খাওয়াতে চান, নাকি স্বাস্থ্যকর খাবার?
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!