Dark Mode
Image
  • Friday, 30 January 2026

১৩ বছরের আগে স্মার্টফোনে শিশুরা পড়ছে বড় ঝুঁকিতে: গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

১৩ বছরের আগে স্মার্টফোনে শিশুরা পড়ছে বড় ঝুঁকিতে: গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; খুব অল্প বয়সেই এটি পৌঁছে যাচ্ছে শিশুদের হাতে। পড়াশোনা, যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের অজুহাতে অনেক পরিবারই ছোট বয়সে সন্তানকে নিজস্ব স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দিচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই প্রবণতা নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৩ বছর বয়সের আগে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া হলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা এবং বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স’–এ। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফিলাডেলফিয়া চিলড্রেন’স হাসপাতালের শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক র‍্যান বারজিলে।

এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি অঞ্চলের সাড়ে দশ হাজারের বেশি শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ১২ বছর বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছে, তাদের মধ্যে ঘুমের সমস্যার ঝুঁকি ৬০ শতাংশের বেশি এবং স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি ৪০ শতাংশের বেশি, তুলনামূলকভাবে যারা ১৩ বছর বা তার পরে ফোন ব্যবহার শুরু করেছে।

গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ৩ হাজার ৪৮৬ জন কিশোরকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে—যারা ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছে, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গবেষকরা বলছেন, বয়ঃসন্ধিকালের শুরুতে স্মার্টফোন ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই তারা শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন।

এদিকে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ সব সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার নির্দেশও দিয়েছে দেশটি।

মালয়েশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রেরও একাধিক অঙ্গরাজ্যে কম বয়সী কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এসব রাজ্যে টিনএজারদের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলতে বাবা-মায়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিশুদের অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টিকে ‘জনস্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন শিকাগোর সাবেক মেয়র রাহম ইমানুয়েল। তিনি আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের সুরক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ অনুসরণ করার জন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধ নয়, বরং সঠিক বয়স ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের দিকেই এখন গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে।

Comment / Reply From