Dark Mode
Image
  • Sunday, 23 August 2026
৩ কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পথে!

৩ কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পথে!

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলে চাকরি করা অনেক তরুণের স্বপ্ন। সেখানে ভালো বেতন, স্থিতিশীল কর্মজীবন ও নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সবার কাছে সেটিই শেষ গন্তব্য নয়। এরই উদাহরণ নিউইয়র্কের প্রযুক্তি পেশাজীবী কেভিন নটন জুনিয়র। বছরে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেতনের চাকরি পেয়েও শেষ পর্যন্ত নিজের উদ্যোগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

গুগলে কাজ করার শুরু থেকেই নটনের মনে ছিল, একদিন নিজের জন্য কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে। তাই আকর্ষণীয় বেতন ও প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার থাকলেও তিনি এটিকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে দেখেননি।

বাবার মৃত্যু বদলে দিল ভাবনা

২০২২ সালে বাবাকে হারানোর পর নটনের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। কাছের একজন মানুষকে হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

তিনি উপলব্ধি করেন, জীবনের বড় একটি অংশ এমন কাজে ব্যয় করা উচিত, যা সত্যিকার অর্থে তাকে আনন্দ দেয় এবং নিজের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে। এরপরই নিজের পছন্দ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে ক্যারিয়ারের কেন্দ্রে রাখার সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়।

মোটা বেতনও ধরে রাখতে পারেনি

গুগলের চাকরিকে নটন নিজের পাওয়া সেরা ‘নাইন-টু-ফাইভ’ চাকরিগুলোর একটি হিসেবে দেখলেও তিনি বুঝতে পারেন, এই জীবন তার চূড়ান্ত কাঙ্ক্ষিত জীবন নয়।

ফলে একসময় করপোরেট চাকরির নিশ্চয়তা ছেড়ে নিজের স্টার্টআপ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্ত একদিনে নেননি। চাকরি ছাড়ার আগে নিজের আর্থিক পরিস্থিতি বেশ ভালোভাবে পরিকল্পনা করেন।

আগে সঞ্চয়, তারপর ঝুঁকি

নটন কয়েক বছরের জীবনযাত্রার খরচ চালানোর মতো অর্থ আগে থেকেই সঞ্চয় করে রেখেছিলেন। ফলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরপরই আয়ের অনিশ্চয়তা নিয়ে তাকে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়নি।

এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর পরামর্শও তার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন্ধুটি তাকে বোঝান, কয়েক বছর চাকরি না করেও যদি সঞ্চয়ের অর্থে চলা সম্ভব হয়, তাহলে নিজের ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করে দেখার সুযোগ নেওয়া যেতে পারে। উদ্যোগ ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আবার চাকরিতে ফেরার পথও খোলা থাকবে।

নিজের পথ বেছে নেওয়ার বার্তা

শেষ পর্যন্ত বছরে কোটি টাকার বেতনের চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ বেছে নেন নটন। তার সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

নটনের গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—ক্যারিয়ার মানেই শুধু বেশি বেতন বা নামী প্রতিষ্ঠানে চাকরি নয়। ব্যক্তিগত আগ্রহ, জীবনের লক্ষ্য, স্বাধীনভাবে কাজ করার ইচ্ছা এবং নিজের কাছে অর্থবহ মনে হওয়া কাজও ক্যারিয়ার নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আর্থিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ঝুঁকি সামলানোর সক্ষমতা বিবেচনা করাও জরুরি।

Comment / Reply From