Dark Mode
Image
  • Wednesday, 02 September 2026
ফর্সা হওয়ার ক্রিমে পারদ, বিপদ কতটা?

ফর্সা হওয়ার ক্রিমে পারদ, বিপদ কতটা?

ত্বকের রং উজ্জ্বল ও ফর্সা করার আশায় বাজারের বিভিন্ন ধরনের স্কিন লাইটেনিং ক্রিম ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু দ্রুত ফর্সা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এসব প্রসাধনীর সবগুলো যে নিরাপদ, তা নয়। সম্প্রতি ত্বক ফর্সাকারী কয়েকটি ক্রিমে অনুমোদিত মাত্রার তুলনায় বহুগুণ বেশি পারদ পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। ফলে সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টায় ত্বকের পাশাপাশি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বাংলাদেশে প্রসাধনীতে পারদের অনুমোদিত সর্বোচ্চ মাত্রা ১ পিপিএম। এর চেয়ে বেশি পারদ থাকলে সংশ্লিষ্ট পণ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই শুধু ক্রিমের বিজ্ঞাপনে ‘ফর্সা’, ‘উজ্জ্বল’ কিংবা ‘দাগমুক্ত’ ত্বকের প্রতিশ্রুতি দেখেই কোনো পণ্য ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফর্সা করার ক্রিমে পারদ কেন ব্যবহার করা হয়?

ত্বকের স্বাভাবিক রং নির্ধারণে মেলানিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু স্কিন লাইটেনিং পণ্যে মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়া কমিয়ে দেওয়ার মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ত্বক সাময়িকভাবে হালকা বা উজ্জ্বল দেখাতে পারে।

পারদও এমন একটি উপাদান, যা কিছু অনিরাপদ ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন এর সংস্পর্শে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল্লাহ শিকদারের মতে, পারদ ত্বককে সাময়িকভাবে কিছুটা ব্লিচিং বা পরিষ্কার দেখাতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে এটি শরীরে শোষিত হয়ে জমতে পারে এবং অতিরিক্ত মাত্রায় পৌঁছালে কিডনিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় উদ্বেগজনক তথ্য

বাংলাদেশে প্রসাধনীতে পারদের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা ১ পিপিএম। এর আগেও ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের নমুনা পরীক্ষা করে বিপজ্জনক মাত্রায় পারদের উপস্থিতি পেয়েছিল বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

২০২০ সালে ১৩টি ক্রিমের নমুনা পরীক্ষা করে আটটিতে অতিরিক্ত মাত্রায় পারদ ও হাইড্রোকুইনোন পাওয়া যায়। পরীক্ষায় ওই আটটি পণ্যে পারদের মাত্রা ১৯৩ থেকে ৯৪৮ পিপিএম পর্যন্ত ছিল। পরে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর আমদানি, বাজারজাত ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি বাজারে থাকা কয়েকটি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম নিয়েও অতিরিক্ত পারদের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে বাজার থেকে স্কিন লাইটেনিং পণ্য কেনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ক্ষতি শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়

পারদযুক্ত প্রসাধনী দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে এর প্রভাব শুধু ত্বকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ত্বকের মাধ্যমে কিছু রাসায়নিক উপাদান শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) সতর্ক করেছে, পারদযুক্ত স্কিন লাইটেনিং পণ্য নিয়মিত ব্যবহারের ফলে শরীরে পারদ জমতে পারে। এর সঙ্গে কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র ও ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।

তাই দ্রুত ত্বক ফর্সা করার আশায় অজানা উৎসের বা অননুমোদিত কোনো ক্রিম দীর্ঘদিন ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ।

ক্রিম কেনার আগে কী দেখবেন?

ত্বকের যত্নের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে শুধু বিজ্ঞাপন বা দ্রুত ফল পাওয়ার প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর না করে পণ্যের লেবেল, উপাদান ও অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে অপরিচিত বা অননুমোদিত উৎস থেকে কেনা ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর ত্বকে অস্বাভাবিক জ্বালা, লালচে ভাব, চুলকানি বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ত্বকের যত্নে নিরাপদ পদ্ধতি কী?

ত্বকের স্বাভাবিক রং পরিবর্তন করার চেয়ে ত্বককে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখাই হওয়া উচিত সৌন্দর্যচর্চার মূল লক্ষ্য। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা, ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং বাইরে বের হওয়ার সময় উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্রণ, মেছতা, কালো দাগ বা হাইপারপিগমেন্টেশনের মতো সমস্যা থাকলে নিজের ইচ্ছায় কোনো ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

অনলাইনে বা পরিচিতজনের পরামর্শে বিভিন্ন ঘরোয়া উপাদান সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক উপাদানও সবার ত্বকে একইভাবে সহনীয় নাও হতে পারে এবং কারও কারও অ্যালার্জি বা ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

ফর্সা নয়, সুস্থ ত্বকই গুরুত্বপূর্ণ

ত্বকের রং কোনোভাবেই সৌন্দর্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। দ্রুত ফর্সা হওয়ার আশায় অনিরাপদ প্রসাধনী ব্যবহার না করে ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য ধরে রাখার দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ত্বকের কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

Comment / Reply From