Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026
অগোছালো ঘর, অস্থির মন? মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্ক জানুন

অগোছালো ঘর, অস্থির মন? মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্ক জানুন

অগোছালো ঘর কি মানসিক অস্থিরতার ইঙ্গিত? জানুন সম্পর্কটা

ঘরে ঢুকেই যদি চোখে পড়ে এলোমেলো জামাকাপড়, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা ব্যবহার না হওয়া জিনিসের স্তূপ—তাহলে সেটার প্রভাব শুধু ঘরের সৌন্দর্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ছাপ ফেলে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অগোছালো ঘর অনেক সময় অগোছালো মনের প্রতিফলন হয়ে ওঠে।

আমাদের সবার বাসাতেই বছরের পর বছর জমে থাকে পুরোনো জামা, উপহার, খেলনা, ফাঁকা বোতল কিংবা পুরোনো বিল-রসিদ। শুরুতে এগুলো তেমন বিরক্তিকর না লাগলেও ধীরে ধীরে এই ‘ক্লাটার’ মানসিক চাপ, অস্থিরতা ও ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এলোমেলো পরিবেশে থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে মনোযোগ কমে, কাজে আগ্রহ নষ্ট হয়, এমনকি সামাজিকভাবে অস্বস্তিও তৈরি হতে পারে। অনেকেই এ কারণে অতিথি ডাকতে দ্বিধা বোধ করেন। তাই ঘর গোছানো মানে শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, মানসিক সুস্থতারও অংশ।

কেন জমে ওঠে অগোছালো অবস্থা

স্মৃতির টান: পুরোনো বই, জামা বা উপহার ফেলে দিতে মন চায় না।

‘কখনো লাগতে পারে’ ভাবনা: ভাঙা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসও রেখে দেওয়ার প্রবণতা।

শুরু করার ভয়: কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে না পেরে কাজ পিছিয়ে দেওয়া।

মনোযোগের সমস্যা: উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা এডিএইচডির মতো সমস্যায় গোছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

গোছানো শুরু করবেন যেভাবে

ছোট পরিসর থেকে শুরু করুন: একবারে পুরো ঘর নয়, দিনে ১৫–২০ মিনিট একটি অংশ গুছান।

চার ভাগে ভাগ করুন: রাখব, দান করব, ফেলে দেব, পরে সিদ্ধান্ত নেব।

প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখুন: প্রতিদিন ব্যবহার হয়—এমন জিনিস সহজে পাওয়ার জায়গায় রাখুন।

রক্ষণাবেক্ষণ গড়ে তুলুন: প্রতিদিন অল্প সময় নিয়ে জিনিস জায়গামতো রাখার অভ্যাস করুন।

ডিজিটাল এলোমেলোও কমান: ফোনের অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, ফাইল ও ই-মেইল নিয়মিত মুছে ফেলুন।

গোছানো ও আবেগের সম্পর্ক

ঘর গোছাতে গিয়ে অনেক সময় আবেগ জড়িয়ে পড়ে। প্রিয় মানুষের দেওয়া কোনো উপহার বা পুরোনো ছবি ফেলে দিতে কষ্ট হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, স্মৃতি জিনিসে নয়—মনে থাকে। প্রয়োজন হলে কিছু স্মৃতিময় জিনিস আলাদা করে সীমিত জায়গায় রাখতে পারেন।

শেষ কথা

ঘর গোছানো মানে কেবল সাজানো-গোছানো বাড়ি নয়, এটি নিজের মনকেও হালকা করার একটি প্রক্রিয়া। কম জিনিস, পরিপাটি পরিবেশ আর খালি জায়গা মানসিক শান্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই আজই শুরু করুন—হয়তো আলমারির এক কোণা থেকেই।

Comment / Reply From