অতিরিক্ত কাজেই বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি 🚨
বর্তমান কর্মজীবনে আট ঘণ্টার সীমা যেন কাগজে-কলমেই আটকে আছে। বাস্তবে অনেকেই নিয়মিত ১০–১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় কাজ করছেন। আর এই দীর্ঘ কর্মঘণ্টাই নীরবে বাড়িয়ে দিচ্ছে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি—এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-এর যৌথ গবেষণা।
গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে ২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ স্ট্রোক ও হৃদরোগে মারা গেছেন। যারা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করেন, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি।
‘কারোশি’: অতিরিক্ত কাজের মর্মান্তিক বাস্তবতা
জাপানে অতিরিক্ত কাজ করতে করতে মৃত্যুকে বলা হয় “কারোশি”। এই ঘটনাকে সরকারিভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে দেশটিতে এ কারণে শতাধিক মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা কর্মজীবনের চাপ কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা স্পষ্ট করে।
দীর্ঘ সময় কাজের প্রভাব কী?
অতিরিক্ত কাজ শুধু শরীর নয়, মনেও গভীর প্রভাব ফেলে।
- মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদ বাড়ে
- ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়
- শরীরে ব্যথা, ক্লান্তি ও দুর্বলতা বাড়ে
- কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়
এছাড়া দীর্ঘ সময় কাজ করা মানুষদের মধ্যে ধূমপান, অনিয়মিত খাবার, কম ব্যায়াম ও কম ঘুমের প্রবণতা বেশি দেখা যায়—যা পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ায়।
মহামারির পর বেড়েছে কাজের সময়
কোভিড-পরবর্তী সময়ে “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” সংস্কৃতি কাজের সময়কে আরও দীর্ঘ করেছে। গবেষকদের মতে, লকডাউনের সময় অনেক দেশে কর্মঘণ্টা গড়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
গিগ ইকোনমি ও টাইম জোনের ফাঁদ
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং ও গিগ ইকোনমির কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। ভিন্ন টাইম জোনে কাজের কারণে রাত জেগে কাজ করা, অনিয়মিত ঘুম এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা—সব মিলিয়ে তাদের জীবন হয়ে উঠছে ক্লান্তিকর।
অনেকেই ভালো রেটিং ও কাজ পাওয়ার আশায় কম পারিশ্রমিকে বেশি সময় কাজ করতে বাধ্য হন, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি ডেকে আনে।
‘ক্লান্তিকে গর্ব’ ভাবা বিপজ্জনক
বর্তমান করপোরেট সংস্কৃতিতে “ব্যস্ত থাকা” বা “ওভারওয়ার্ক” অনেক সময় সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, এই ধারণা অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় কাজ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে না, বরং কমে যায় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন—
- নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কাজ এড়িয়ে চলা
- নিয়মিত বিরতি নেওয়া
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
- সপ্তাহে কাজের সময় সীমিত রাখা
- কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা
নতুন কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে চার দিন কাজের ব্যবস্থা কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং উৎপাদনশীলতাও বাড়ায়।
শেষ কথা
অতিরিক্ত কাজ কখনোই সাফল্যের শর্টকাট নয়। বরং এটি ধীরে ধীরে শরীর ও মনকে ক্ষয় করে। কাজ প্রয়োজন, কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন নিজের সুস্থতা।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!