মাংস রান্নায় ছোট ভুলেই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি!
মাংস আমাদের খাদ্যতালিকার জনপ্রিয় একটি অংশ। বিশেষ করে উৎসব, দাওয়াত কিংবা পারিবারিক আয়োজনে মাংস ছাড়া খাবারের আয়োজন যেন অসম্পূর্ণ। তবে শুধু সুস্বাদু হলেই হবে না, মাংস রান্না হতে হবে স্বাস্থ্যকর উপায়েও। সঠিক পদ্ধতিতে রান্না না করলে অতিরিক্ত তেল-চর্বি, পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়া কিংবা স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই মাংস রান্নার সময় কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি।
তেল-চর্বি কম রাখুন
মাংস রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি যতটা সম্ভব কেটে ফেলে দিন। রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাই ভালো। চাইলে একেবারে তেল ছাড়াও মাংস রান্না করা সম্ভব।
বিশেষ করে গরু বা খাসির মাংসে থাকা প্রাকৃতিক চর্বি উত্তাপে গলে বের হয়ে আসে, যা রান্নার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। ডুবো তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে গিয়ে বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু পদ তৈরি করতে পারেন।
গ্রিল বা ঝলসানোতে সতর্কতা
অনেকেই মাংস গ্রিল বা বারবিকিউ করতে পছন্দ করেন। তবে মাংস যেন অতিরিক্ত পুড়ে কালো না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত ঝলসানো খাবারে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে।
মাংস ধীরে ধীরে মৃদু আঁচে রান্না করলে ভেতরটা ভালোভাবে সেদ্ধ হয় এবং স্বাদও বজায় থাকে। গ্রিল করার আগে মাংস মসলা দিয়ে মেরিনেট করে রাখা ভালো।
পুষ্টিগুণ ঠিক রাখতে যা করবেন
উচ্চ তাপের পরিবর্তে মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে মাংস রান্না করলে পুষ্টিগুণ বেশি বজায় থাকে। সময় কম থাকলে প্রেশার কুকার ব্যবহার করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশু জবাইয়ের তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে মাংস রান্না করা ভালো। এতে পুষ্টিগুণ ভালো থাকে।
মাংস রান্নার সময় ঢেকে রাখা উচিত, কারণ খোলা অবস্থায় রান্না করলে কিছু পুষ্টি উপাদান বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত জ্বাল দিয়ে ঝুরি করে ফেললেও পুষ্টিগুণ কমে যায়।
ঝোলযুক্ত মাংসের পদে তুলনামূলক বেশি পুষ্টি বজায় থাকে। পাশাপাশি মাংসের সঙ্গে বিভিন্ন সবজি যোগ করলে খাবার আরও স্বাস্থ্যকর হয়। এতে একদিকে যেমন পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে, অন্যদিকে মাংস খাওয়ার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
খাদ্য নিরাপত্তায় সতর্ক থাকুন
মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। আধা সেদ্ধ মাংস খেলে জীবাণুর সংক্রমণ ও হজমের সমস্যা হতে পারে।
কাঁচা মাংস ও রান্না করা মাংস আলাদা রাখুন। কাঁচা মাংস কাটার ছুরি, বঁটি, চপিং বোর্ড বা পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার না করে অন্য খাবারে ব্যবহার করবেন না।
এ ছাড়া কাঁচা মাংস ধরার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া জরুরি।
যেসব বিষয় খেয়াল রাখা দরকার
- মাংস ছোট টুকরো করে রান্না করলে ভালোভাবে সেদ্ধ হয়
- অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন
- পশুর মগজ, পায়া, ভুঁড়ি, পাঁজর, মজ্জা ও নেহারিতে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে
- কলিজা ও রানের মাংসও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত
- কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাংস খেতে হবে
- অতিরিক্ত লবণ, সস বা কেচাপ ব্যবহার করলে খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে
সুস্থ থাকতে চাইলে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে রান্না করছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বাস্থ্যকর উপায়ে মাংস রান্নার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!