পুষ্টির ঘাটতিতেই বাড়ছে বিষণ্নতা? জানুন বিস্তারিত
বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনকে আমরা অনেক সময় শুধুই মন খারাপ কিংবা সাময়িক অবসাদ ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ এটি একটি গুরুতর মানসিক সমস্যা, যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ বা জীবনযাপনের সমস্যার পাশাপাশি শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও বিষণ্নতার অন্যতম কারণ হতে পারে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস শুধু শরীর নয়, মনকেও সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ওমেগা-৩ ফ্যাটের অভাব বাড়াতে পারে বিষণ্নতা
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে ওমেগা-৩ ফ্যাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীর নিজে থেকে এই ফ্যাট তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের মাধ্যমে এটি গ্রহণ করতে হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খান, তাঁদের মধ্যে বিষণ্নতার প্রবণতা তুলনামূলক কম দেখা যায়।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার:
- সামুদ্রিক মাছ
- তিসির বীজ
- চিয়া সিড
- আখরোট
- ডিম
ভিটামিন বি১২ কমে গেলে মনও খারাপ হতে পারে
ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এর ঘাটতি হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে।
এই ভিটামিন সাধারণত পাওয়া যায়—
- মাছ
- মাংস
- ডিম
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে
নিরামিষভোজীদের মধ্যে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি বেশি দেখা যায়। বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা যাঁদের হজমে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও শরীরে এই ভিটামিন কমে যেতে পারে।
ভিটামিন ডি ও মানসিক সুস্থতার সম্পর্ক
ভিটামিন ডি ‘সানশাইন ভিটামিন’ নামে পরিচিত। সূর্যের আলো থেকে শরীর এই ভিটামিন তৈরি করে। অনেক সময় ভিটামিন ডির অভাবে মন খারাপ, অবসাদ ও বিষণ্নতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন ডির উৎস:
- সকালের রোদ
- সামুদ্রিক মাছ
- ডিম
- মাশরুম
- ফোর্টিফায়েড দুধ
বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন কিছু সময় রোদে হাঁটার পরামর্শ দেন।
প্রোটিনের ঘাটতিতেও কমতে পারে মানসিক শক্তি
প্রোটিন শরীরে বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে, যা সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো ‘হ্যাপি হরমোন’ তৈরিতে সাহায্য করে।
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার:
- মাছ ও মাংস
- ডিম
- দুধ
- সয়া
- বাদাম ও শস্যদানা
এসব খাবার মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সেলেনিয়াম ও আয়োডিনও গুরুত্বপূর্ণ
থাইরয়েডের সমস্যা অনেক সময় বিষণ্নতার কারণ হতে পারে। থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সেলেনিয়াম ও আয়োডিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই উপাদানগুলো পাওয়া যায়—
- সামুদ্রিক মাছ
- কিছু বাদাম ও বীজে
দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতায় কী করবেন?
যদি দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতা, ক্লান্তি বা আগ্রহহীনতা অনুভব করেন, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না, তা জেনে নিতে হবে। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা পরিবর্তন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যায়।
মানসিক সুস্থতার জন্য শুধু ওষুধ নয়, সঠিক পুষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর উপাদান রাখুন এবং নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও যত্নশীল হোন।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!