এআই কি এখনই মানবজাতিকে হারিয়ে দেবে? নতুন পূর্বাভাসে স্বস্তির ইঙ্গিত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কি মানবজাতির জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হয়ে উঠতে পারে—এই প্রশ্ন গত কয়েক বছর ধরেই প্রযুক্তি দুনিয়ায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ওপেনএআইয়ের সাবেক গবেষক ড্যানিয়েল কোকোটাজলোর ২০২৪ সালের এক ভবিষ্যদ্বাণী ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। তিনি সতর্ক করেছিলেন, ২০২৭ সালের মধ্যেই এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং মানবসভ্যতাকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে।
তবে নতুন বছরে এসে সেই আশঙ্কায় কিছুটা সংশোধন আনলেন তিনি নিজেই। ড্যানিয়েলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, এআইয়ের অগ্রগতি যতটা দ্রুত হবে বলে মনে করা হচ্ছিল, বাস্তবে তা কিছুটা ধীরগতির। ফলে মানবজাতির জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সর্বনাশের সম্ভাবনা তিনি আর দেখছেন না। এ বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ান সংবাদ প্রকাশ করেছে।
‘এআই ২০২৭’ তত্ত্ব ও বিতর্ক
গত বছরের এপ্রিলে ড্যানিয়েল ‘এআই ২০২৭’ নামে একটি তত্ত্ব সামনে আনেন। সেখানে বলা হয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যেই এআই মানুষের সহায়তা ছাড়াই কোড লেখা ও নিজেকে উন্নত করার ক্ষমতা অর্জন করবে। এর ফল হিসেবে জন্ম নেবে ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’—অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তা, যা একসময় মানবজাতিকেই ধ্বংস করতে পারে।
এই তত্ত্ব এতটাই আলোড়ন তোলে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতার আলোচনায় এর উল্লেখ করেন। তবে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্যারি মার্কাস একে সরাসরি ‘বিজ্ঞান কল্পকাহিনি’ বলে আখ্যা দেন।
কেন পিছোল সময়সীমা
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ড্যানিয়েল লেখেন, “আমাদের আগের হিসাবের তুলনায় সময়রেখা এখন একটু দীর্ঘ মনে হচ্ছে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটি আসার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এআই খুব দ্রুত সবকিছু দখল করে নেবে। কিন্তু বাস্তব পৃথিবীর জটিলতা এআইয়ের অগ্রগতিকে সহজ করে না।
‘ইন্টারন্যাশনাল এআই সেফটি রিপোর্ট’-এর সহলেখক ম্যালকম মারে বলেন, এআইয়ের সক্ষমতা সব ক্ষেত্রে সমান নয়। বাস্তব সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এআইয়ের আরও সময় ও ব্যবহারিক দক্ষতা প্রয়োজন।
নতুন পূর্বাভাস কী বলছে
ড্যানিয়েল ও তার দলের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এআই স্বাধীনভাবে কোড লেখা ও নিজেকে উন্নত করার ক্ষমতা পেতে পারে ২০৩০-এর দশকের শুরুতে। আর অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তা তৈরির সম্ভাব্য সময় ধরা হচ্ছে ২০৩৪ সাল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই নতুন পূর্বাভাসে মানবজাতি ধ্বংসের কোনো নির্দিষ্ট সময় বা দিনক্ষণ আর উল্লেখ করা হয়নি।
ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান অবশ্য আশাবাদী। গত অক্টোবরে তিনি জানান, ২০২৮ সালের মধ্যেই তারা একটি স্বয়ংক্রিয় ‘এআই গবেষক’ তৈরি করতে চান। তবে ব্রাসেলসভিত্তিক এআই নীতি গবেষক আন্দ্রেয়া কাস্তাগনা মনে করিয়ে দেন—বাস্তব পৃথিবী কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমা নয়। শুধু সুপারইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটার তৈরি করলেই তা রাতারাতি বিশ্ব শাসন করতে পারবে না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আগে ধারণা করা হয়েছিল ২০২৭ সালেই এআই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করবে। এখন সেই আশঙ্কা কিছুটা দূরে সরে গেছে। ‘টার্মিনেটর’ পরিস্থিতি যদি কখনো আসেও, তার জন্য মানবজাতির হাতে আরও কিছুটা সময় যে আছে, তা নিয়েই আপাতত স্বস্তি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!