একই বয়স, ভিন্ন বার্ধক্য: কেন সবাই সমান তরুণ দেখায় না?
অনেক সময় আমরা দেখি—একই বয়সের দুইজন মানুষকে দেখতে একেবারেই আলাদা লাগে। কেউ বয়সের তুলনায় অনেক বেশি তরুণ ও প্রাণবন্ত, আবার কেউ তুলনামূলকভাবে ক্লান্ত ও বয়স্ক দেখায়। বিশেষ করে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। বয়স বাড়লেও তাঁদের ত্বক, শক্তি ও ফিটনেস থাকে ঈর্ষণীয়। এর পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা—‘জৈব বয়স’।
জৈব বয়স আসলে কী?
জৈব বয়স (Biological Age) হলো শরীরের ভেতরের প্রকৃত বয়স। অর্থাৎ সনদে আপনার বয়স যতই হোক, শরীরের কোষ, হরমোন ও শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা কতটা সক্রিয় ও কার্যকর—সেটিই নির্ধারণ করে আপনার জৈব বয়স।
জৈব বয়স নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—
কোষের কার্যক্ষমতা
হরমোনের ভারসাম্য
শরীরের শক্তি উৎপাদনের দক্ষতা
খাদ্যাভ্যাস
ঘুমের মান
মানসিক চাপের মাত্রা
অর্থাৎ জীবনযাপনের ধরনই মূলত ঠিক করে দেয় শরীর কত দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোবে। গবেষণায় দেখা গেছে, একই বয়সের দুই ব্যক্তির জৈব বয়সে ৫ থেকে ১৫ বছরের পার্থক্য থাকতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন জৈব বয়স বাড়ছে?
জৈব বার্ধক্যের কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ রয়েছে, যা অবহেলা করা ঠিক নয়—
হঠাৎ ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
দ্রুত বলিরেখা পড়া
অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া বা পাতলা হওয়া
আগের মতো শক্তি না থাকা
সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া
ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে বা কমে যাওয়া
চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল
এসব শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; অনেক সময় এগুলো শরীরের ভেতরে ক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়।
জৈব বয়স দ্রুত বাড়ার কারণ
আধুনিক জীবনযাপন জৈব বয়স বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, রক্তে চিনির ভারসাম্যহীনতা এবং হরমোনের সমস্যা শরীরের কোষে ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।
ফলে শক্তি উৎপাদন কমে যায়, কোষের মেরামত প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শরীর সময়ের আগেই বার্ধক্যের দিকে এগোতে শুরু করে।
কীভাবে জৈব বার্ধক্য ধীর করবেন?
সুখবর হলো, জৈব বয়স অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই পার্থক্য দেখা যায়—
নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা
প্রাকৃতিক ও রঙিন খাবার গ্রহণ
পর্যাপ্ত শাকসবজি ও বাদাম খাওয়া
অতিরিক্ত চিনি কমানো
৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
সময়মতো ও পরিমিত খাবার খাওয়া
বয়স থামানো না গেলেও বার্ধক্যের গতি ধীর করা সম্ভব। চল্লিশ বছরেও ত্রিশের মতো প্রাণবন্ত থাকা অসম্ভব নয়—যদি শরীরের ভেতরের যত্ন নেওয়া যায়।
খাদ্যাভ্যাস ঠিক করুন, শরীরকে সচল রাখুন, মানসিক চাপ কমান—পরিবর্তনটা আপনি নিজেই অনুভব করবেন।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!