কাঁঠালের গুড়—স্বাদে-ঘ্রাণে চমক, গবেষণায় নতুন দিগন্ত 🌿
চায়ে চিনি নয়, এবার মেশানো হচ্ছে গুড়—তাও আবার আখ বা খেজুরের নয়, কাঁঠাল থেকে তৈরি! শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবেই এমন এক অভিনব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন ফারহানা মুনতাহ। দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর এই শিক্ষার্থী কাঁঠালের কোয়া থেকে তৈরি করেছেন ঘন তরল গুড়, যা স্বাদ, মিষ্টতা ও ঘ্রাণে প্রচলিত গুড়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম।
চোখ বন্ধ করে একবার স্বাদ নিলে বোঝা যায়—এটি শুধু নতুনত্ব নয়, বরং সম্ভাবনাময় এক খাদ্য উদ্ভাবন। আঙুলের ডগায় একটু ছুঁয়েই জিভে দিলে মিষ্টতার সঙ্গে মিশে যায় কাঁঠালের স্বাভাবিক সুবাস, যা খাওয়ার অভিজ্ঞতাকে করে তোলে ভিন্নমাত্রার।
গবেষণার গল্প: কলা থেকে কাঁঠাল
ফারহানা ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন বিভাগের ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী, বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করেছিলেন বিভাগের শিক্ষক মারুফ আহমেদ।
ফারহানা জানান,
“গবেষণার শুরুতে কাঁঠাল না থাকায় কলা দিয়ে গুড় তৈরির চেষ্টা করি এবং প্রাথমিকভাবে সফল হই। পরে মৌসুম এলে পাকা কাঁঠালের কোয়া থেকে বীজ আলাদা করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কেজি গুড় তৈরি করি।”
এই গুড় ছয় মাস ধরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে এর গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল বলছে, কাঁঠালের গুড়ের মান অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত আখের গুড়ের চেয়েও উন্নত।
শুধু গুড় নয়, আরও উদ্ভাবন
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু কাঁঠালের গুড়েই থেমে নেই। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে আরও নানা চমকপ্রদ উদ্ভাবন—
- টমেটো থেকে পাউডার সস
- দই পাউডার
- ব্ল্যাক গার্লিক
- কালোজামের জুস
- টুটি ফ্রুটি
- মিষ্টি আলুর পাতা থেকে ফাইবার পাউডার
এ ছাড়া প্রকৌশল বিভাগের সাজ্জাত হোসেন তৈরি করেছেন মাল্টি গ্রেন ড্রায়ার, যা শস্য শুকাতে ব্যবহৃত হয়। কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন করেছেন বেগুন ও টমেটোর নতুন জাত।
সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
দেশীয় ফল কাঁঠালকে কেন্দ্র করে এমন উদ্ভাবন শুধু নতুন খাদ্যপণ্য তৈরির দিকেই নয়, বরং কৃষিভিত্তিক শিল্পের নতুন সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত দেয়। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ ধরনের গবেষণা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!