কৈশোরের পথে ভুল নয়, সচেতন সিদ্ধান্তই হোক সঙ্গী
বয়ঃসন্ধি বা টিনএজ—মানুষের জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল সময়। শৈশবের নিরাপদ গণ্ডি পেরিয়ে এই সময়েই শুরু হয় শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত রূপান্তর। কণ্ঠস্বর বদলায়, দেহে আসে পরিবর্তন, আর মনোজগতে তৈরি হয় এক অজানা আলোড়ন। এই আলোড়নের ভেতরেই অজ্ঞতাবশত অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফল ভোগ করতে হয় দীর্ঘদিন।
তাই কৈশোরেই কিছু বিষয় জানা ও বোঝা জরুরি—যাতে ভুল পথে পা না বাড়ে, জীবন এগোয় সচেতনভাবে।
১. ভুল মানেই ব্যর্থতা নয়
ভুল করা মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম। শুধু কিশোর-কিশোরী নয়, যে কোনো বয়সেই মানুষ ভুল করে। পরীক্ষায় খারাপ করা, কোনো জিনিস হারিয়ে ফেলা—এসব ভুলে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু জীবন কখনো একটি ভুলেই থেমে থাকে না।
ভুল তখনই আশীর্বাদ, যখন তা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়। আসল ব্যর্থতা হলো—ভুল করে কিছু না শেখা। তাই ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে, শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. নিজের যত্ন আগে
“Self-help is the best help”—এই কথাটির গুরুত্ব কৈশোরেই বোঝা দরকার। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে নিজের বা অন্যের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়।
নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও মেডিটেশন মন ও শরীর দুটোকেই সুস্থ রাখে। পাশাপাশি নতুন কিছু শেখার চেষ্টা—সাঁতার, ড্রাইভিং, বাদ্যযন্ত্র কিংবা যে কোনো দক্ষতা—এই বয়সেই আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে।
৩. বাহ্যিক চাকচিক্য সব নয়
সহপাঠীদের দামী গ্যাজেট, ফ্যাশন বা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে নিজেকে ছোট মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু বাইরের ঝলকানিই জীবনের আসল ছবি নয়।
আজ যে জিনিসটি আকর্ষণীয়, কাল সেটাই পুরনো হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি যদি নিজের দক্ষতা, জ্ঞান ও চরিত্র গঠনে মন দেন—ভবিষ্যতে সেটাই আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে। অন্যের সঙ্গে নয়, নিজেকে তুলনা করুন নিজের গতকালের সঙ্গে।
৪. ডিগ্রিই শেষ কথা নয়
পড়াশোনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুধু নাম্বার বা ডিগ্রির পেছনে ছুটে জীবন থেমে থাকে না। ডিগ্রির চেয়ে দক্ষতা অনেক বেশি মূল্যবান।
যে কাজে আগ্রহ, যে বিষয়ে ভালো লাগা—সেখানে নিজেকে দক্ষ করে তুলুন। তবে পড়াশোনা প্রয়োজন জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে। শেখার আনন্দ নিয়েই পড়াশোনায় এগোনোই সবচেয়ে ভালো পথ।
৫. একজনকে ঘিরেই জীবন নয়
বন্ধুত্ব, প্রেম কিংবা যে কোনো সম্পর্ক—সব সম্পর্কই চিরস্থায়ী হয় না। ভুল বোঝাবুঝিতে কেউ জীবন থেকে সরে গেলে প্রথমে কষ্ট হয়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে বোঝা যায়—জীবন থেমে থাকে না।
জীবনে অনেক মানুষ আসবে, আবার চলে যাবে। সবাইকে ধরে রাখার প্রয়োজন নেই। যারা এসেছিল, তারা জীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে থাক—এই বোধটাই মানসিক পরিণতিকে শক্ত করে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!