Dark Mode
Image
  • Friday, 28 August 2026
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখবে যে ৭ খাবার

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখবে যে ৭ খাবার

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সব কোলেস্টেরল অবশ্য ক্ষতিকর নয়। শরীরে থাকা এলডিএল (LDL)-কে সাধারণত ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল এবং এইচডিএল (HDL)-কে ‘ভালো’ কোলেস্টেরল হিসেবে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আঁশসমৃদ্ধ খাবার, বাদাম, শাকসবজি ও ফলসহ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন এমন কয়েকটি খাবার হলো—

১. দারুচিনি

রান্না কিংবা পানীয়তে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে দারুচিনি ব্যবহার করা হয়। এতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে শুধু দারুচিনি খেলেই কোলেস্টেরল কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

২. পেঁয়াজ

পেঁয়াজে রয়েছে কোয়ারসেটিন (Quercetin) নামের একটি উদ্ভিজ্জ উপাদান। সালাদ বা রান্নায় নিয়মিত পেঁয়াজ রাখা স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যক্তিগত সহনশীলতার বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

৩. ওটমিল

ওটমিলে রয়েছে দ্রবণীয় আঁশ, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান। এই ধরনের আঁশ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। সকালের নাশতায় দুধ বা টকদইয়ের সঙ্গে ওটমিল খাওয়া যেতে পারে।

৪. বাদাম

কাঠবাদাম, আখরোটসহ বিভিন্ন ধরনের বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যবান্ধব খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত লবণ বা চিনি মেশানো বাদামের পরিবর্তে সাধারণ বাদাম বেছে নেওয়া ভালো।

৫. শাকসবজি

পালং শাক, ব্রকলি, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন শাকসবজিতে রয়েছে আঁশ ও নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখলে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যকর হয় এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।

৬. ফল

আপেল, কমলা ও বিভিন্ন ধরনের ফল আঁশ ও উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস। বিশেষ করে পুরো ফল খাওয়া ফলের রসের তুলনায় ভালো, কারণ এতে আঁশ অক্ষুণ্ন থাকে। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে মৌসুমি ফল রাখা যেতে পারে খাদ্যতালিকায়।

৭. রসুন

রসুনে বিভিন্ন সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে রসুন ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে রসুনকে কোলেস্টেরলের ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কমানো, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত। শুধু খাবার পরিবর্তন করে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বন্ধ করা নিরাপদ নয়।

Comment / Reply From