Dark Mode
Image
  • Friday, 28 August 2026
মাথাব্যথার ৮ ধরন, কোনটিতে ভুগছেন আপনি?

মাথাব্যথার ৮ ধরন, কোনটিতে ভুগছেন আপনি?

মাথাব্যথা খুব পরিচিত একটি সমস্যা হলেও সব ধরনের মাথাব্যথার কারণ এক নয়। কখনো মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি বা পানিশূন্যতা থেকে মাথা ধরতে পারে, আবার কখনো এর পেছনে থাকতে পারে মাইগ্রেন, ঘাড়ের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক কারণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মাথাব্যথাকে সাধারণত প্রাথমিকমাধ্যমিক—এই দুই ভাগে দেখা হয়। অন্য কোনো রোগ বা সমস্যার সরাসরি প্রভাবে না হলে সেটি প্রাথমিক মাথাব্যথা; আর অন্য রোগ, আঘাত বা শারীরিক সমস্যার কারণে হলে তাকে মাধ্যমিক মাথাব্যথা বলা হয়।

মাথাব্যথার ধরন ও উপসর্গ সম্পর্কে ধারণা থাকলে সমস্যাটি বোঝা সহজ হয়। তবে তীব্র, নতুন বা অস্বাভাবিক ধরনের মাথাব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

টেনশন হেডেক

সবচেয়ে পরিচিত ধরনের প্রাথমিক মাথাব্যথার মধ্যে টেনশন হেডেক অন্যতম। এ ক্ষেত্রে সাধারণত মাথার দুই পাশে চাপ বা টান ধরার মতো অনুভূতি হয়। মনে হতে পারে, মাথার চারপাশে শক্ত কোনো ব্যান্ড বাঁধা রয়েছে।

মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, দীর্ঘ সময় কাজ করা কিংবা শরীরে পানির ঘাটতি এ ধরনের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে।

মাইগ্রেন

মাইগ্রেনকে শুধু সাধারণ মাথাব্যথা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি স্নায়বিক সমস্যা। সাধারণত মাথার এক পাশে দপদপ করা তীব্র ব্যথা হয়। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, বমি এবং আলো, শব্দ বা গন্ধের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্যথা শুরু হওয়ার আগে চোখে ঝিকিমিকি আলো বা বাঁকা রেখা দেখা, শরীরের কোনো অংশে ঝিনঝিন করা কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

সারভিকোজেনিক হেডেক

ঘাড়ের পেশিতে দীর্ঘদিনের টান, স্নায়ুতে চাপ, আর্থ্রাইটিস বা ঘাড়ে আঘাতের কারণে সারভিকোজেনিক মাথাব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যথার উৎপত্তি ঘাড়ে হলেও তা ধীরে ধীরে মাথার সামনের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাই এই ধরনের মাথাব্যথা কমাতে শুধু ব্যথার চিকিৎসা নয়, ঘাড়ের সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাফেইন বন্ধ করার পর মাথাব্যথা

যাঁরা নিয়মিত বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করেন, তাঁরা হঠাৎ চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিলে মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। সাধারণত ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ করার ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ধরনের সমস্যা শুরু হতে পারে।

মাথাব্যথার পাশাপাশি ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগে সমস্যা ও বমি বমি ভাবও দেখা দিতে পারে।

পরিশ্রমজনিত মাথাব্যথা

দৌড়ানো, ভারী ব্যায়াম, লাফানো বা ভারী কিছু তোলার মতো শারীরিক পরিশ্রমের পর হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এমনকি জোরে কাশি বা হাঁচির পরও কারও কারও মাথা ধরতে পারে।

সাধারণত এ ধরনের ব্যথা অল্প সময় স্থায়ী হয়। তবে জীবনে প্রথমবার হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ কখনো কখনো এর পেছনে গুরুতর কারণও থাকতে পারে।

সাইনাসজনিত মাথাব্যথা

সাইনুসাইটিসের প্রদাহ বা সংক্রমণের সঙ্গে কপাল, চোখ ও গালের আশপাশে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। পাশাপাশি নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, জ্বর বা মুখে চাপ অনুভূত হওয়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

সাইনাসের মূল সমস্যার চিকিৎসা হলে এর সঙ্গে সম্পর্কিত মাথাব্যথাও সাধারণত কমে আসে।

অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা

মাথাব্যথা হলেই ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস কখনো উল্টো সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। নিয়মিত বা অতিরিক্ত ব্যথানাশক ব্যবহারের ফলে মাথাব্যথা আরও ঘন ঘন হওয়ার ঘটনাকে মেডিকেশন-ওভারইউজ বা রিবাউন্ড হেডেক বলা হয়।

যাঁদের নিয়মিত মাথাব্যথা হয় এবং প্রায়ই ওষুধের প্রয়োজন পড়ে, তাঁদের নিজের মতো করে ওষুধ না বাড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ক্লাস্টার হেডেক

ক্লাস্টার হেডেক তুলনামূলক বিরল হলেও এটি অত্যন্ত তীব্র ধরনের মাথাব্যথা। সাধারণত এক চোখের আশপাশে জ্বালাপোড়া বা ছুরিকাঘাতের মতো তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

এর সঙ্গে চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে। একই দিনে একাধিকবার ব্যথার আক্রমণ হতে পারে এবং কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

মাথাব্যথার ধরন হঠাৎ বদলে গেলে, জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা হলে, মাথায় আঘাতের পর ব্যথা শুরু হলে বা এর সঙ্গে অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনি, দুর্বলতা, কথা বলার সমস্যা, দৃষ্টির পরিবর্তন কিংবা উচ্চ জ্বরের মতো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

মাথাব্যথার ধরন বুঝে কারণ খুঁজে বের করাই সঠিক চিকিৎসার প্রথম ধাপ। তাই বারবার মাথাব্যথা হলে শুধু ব্যথানাশক খেয়ে সাময়িকভাবে উপশম না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Comment / Reply From