Dark Mode
Image
  • Friday, 26 June 2026
গরম না ঠান্ডা চা, কোনটিতে বেশি স্বাস্থ্য উপকারিতা?

গরম না ঠান্ডা চা, কোনটিতে বেশি স্বাস্থ্য উপকারিতা?

এক কাপ চা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দিনের শুরুতে, কাজের ফাঁকে কিংবা ক্লান্তি দূর করতে চায়ের জুড়ি নেই। কেউ ধোঁয়া ওঠা গরম চা পছন্দ করেন, আবার অনেকের কাছে বরফ মেশানো ঠান্ডা চা বেশি আরামদায়ক। বিশেষ করে গরমের দিনে ঠান্ডা চায়ের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

তবে প্রশ্ন হলো, গরম ও ঠান্ডা চায়ের মধ্যে স্বাস্থ্যগত কোনো পার্থক্য আছে কি? কোনটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী?

পুষ্টিবিদদের মতে, চা গরম না ঠান্ডা—সেটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো চা তৈরির পদ্ধতি এবং এতে কতটা চিনি ব্যবহার করা হচ্ছে। সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হলে দুই ধরনের চায়েরই রয়েছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা।

বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো বলেন, নিয়মিত চা পান করতে চাইলে এর ধরন নয়, বরং প্রস্তুত প্রণালী ও উপাদানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ঠান্ডা চা কি স্বাস্থ্যকর?

অনেকেই মনে করেন ঠান্ডা চা মানেই কম স্বাস্থ্যকর পানীয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে এতে ব্যবহৃত চিনির পরিমাণের ওপর।

অতিরিক্ত চিনি ছাড়া তৈরি ঠান্ডা চা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে এবং গরম আবহাওয়ায় পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। শরীরচর্চার পর বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর এটি শরীরকে দ্রুত স্বস্তি দিতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর চা

চায়ে রয়েছে নানা ধরনের প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে চিনি ছাড়া চা পান করলে এসব উপকারী উপাদান শরীরে পৌঁছায় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

গরম চায়ের বাড়তি সুবিধা

গরম চায়ের রয়েছে কিছু বিশেষ উপকারিতা। সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত অস্বস্তিতে গরম চা বেশ কার্যকর হতে পারে। গরম পানীয় শ্বাসনালিতে জমে থাকা শ্লেষ্মা নরম করে এবং গলা ও নাকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া দিনের ব্যস্ততা শেষে ধীরে ধীরে এক কাপ গরম চা পান করলে মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়। অনেকের জন্য এটি বিশ্রাম ও স্বস্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সামান্য এগিয়ে গরম চা

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানিতে চা তৈরি করলে চা-পাতা থেকে কিছু উপকারী উপাদান তুলনামূলক বেশি বের হয়ে আসে। ফলে গরম চায়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ সামান্য বেশি হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ঠান্ডা চা কম উপকারী। গরম পানিতে তৈরি চা ঠান্ডা করে পান করলেও এর বেশিরভাগ পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। তাই চা গরম না ঠান্ডা, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি কীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

চিনি কমানোই সবচেয়ে জরুরি

চায়ের উপকারিতা ধরে রাখতে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। অতিরিক্ত চিনি ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চায়ের স্বাদ বাড়াতে চিনি ছাড়াও লেবু, কমলা, পুদিনা পাতা, আদা, দারুচিনি, এলাচ কিংবা বিভিন্ন ফলের প্রাকৃতিক স্বাদ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চায়ের স্বাদও বাড়বে, স্বাস্থ্য উপকারিতাও বজায় থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম বা ঠান্ডা—দুই ধরনের চায়েরই রয়েছে নিজস্ব উপকারিতা। তবে সুস্থ থাকতে হলে চা পান করতে হবে পরিমিত পরিমাণে এবং অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে।

Comment / Reply From