বিমানে কত লাগেজ নিতে পারবেন? জেনে নিন নিয়ম
আকাশপথে ভ্রমণের সময় যাত্রীদের জন্য লাগেজ বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থাগুলো লাগেজের ওজন, আকার এবং বহনযোগ্য সামগ্রীর ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে। তাই ভ্রমণের আগে লাগেজ সংক্রান্ত নিয়মগুলো জেনে নেওয়া জরুরি।
সাধারণত বিমানে দুই ধরনের লাগেজ বহনের সুযোগ থাকে—হ্যান্ড লাগেজ (কেবিন ব্যাগ) এবং বুকিং বা চেক-ইন লাগেজ। তবে কোন ধরনের ব্যাগে কী রাখা যাবে এবং কত ওজন বহন করা যাবে, সে বিষয়ে এয়ারলাইনসভেদে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
বুকিং (চেক-ইন) লাগেজে যা জানা জরুরি
চেক-ইন লাগেজ সাধারণত বিমানের কার্গো হোল্ডে রাখা হয়। অধিকাংশ এয়ারলাইনস নির্দিষ্ট আকারের একটি বা দুটি ব্যাগ বিনা অতিরিক্ত খরচে বহনের অনুমতি দেয়।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, বুকিং লাগেজে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব কিংবা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী রাখা নিরুৎসাহিত করা হয়। কারণ এসব জিনিস হারিয়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রে বিমান সংস্থা দায় নেয় না।
এ ছাড়া পাওয়ার ব্যাংক, অতিরিক্ত লিথিয়াম ব্যাটারি বা ব্যাটারিচালিত কিছু ডিভাইস চেক-ইন লাগেজে রাখা নিষিদ্ধ। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব সামগ্রী হ্যান্ড লাগেজে বহন করতে হয়।
ওজনের ক্ষেত্রে সাধারণত ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা দুই ব্যাগে মোট ৪০ কেজি পর্যন্ত এবং বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা দুই ব্যাগে সর্বোচ্চ ৬০ কেজি পর্যন্ত মালামাল বহনের সুযোগ পেয়ে থাকেন। দুই বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য সাধারণত অতিরিক্ত ১০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বহনের সুবিধাও দেওয়া হয়।
দাহ্য পদার্থ যেমন সেভিং ফোম, জীবাণুনাশক স্প্রে বা পারফিউম নির্দিষ্ট সীমার বেশি বহনের অনুমতি নেই। এসব পণ্যের পরিমাণ সাধারণত ৫০০ মিলিলিটারের মধ্যে রাখতে হয়।
হ্যান্ড লাগেজে কী নেওয়া যাবে?
হ্যান্ড লাগেজ হলো সেই ব্যাগ, যা যাত্রী নিজের সঙ্গে কেবিনে বহন করেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাধারণত সর্বোচ্চ ৭ কেজি ওজনের একটি হ্যান্ড লাগেজ বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। নির্ধারিত আকার ও ওজন অতিক্রম করলে সেটি চেক-ইন লাগেজ হিসেবে জমা দিতে হতে পারে।
হ্যান্ড লাগেজে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী রাখা যেতে পারে।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ছুরি, কাঁচি, ব্লেড, সুই, ম্যাচ, লাইটার এবং ধারালো বস্তু বহন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ১০০ মিলিলিটারের বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ড লাগেজে নেওয়ার অনুমতি নেই।
তরল সামগ্রীর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
শ্যাম্পু, হেয়ার জেল, লোশন, ক্রিম, পারফিউম, নেইলপলিশ, স্প্রে কিংবা পেট্রোলিয়াম জেলি—সবই তরল বা জেল জাতীয় সামগ্রী হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব পণ্য হ্যান্ড লাগেজে বহন করতে চাইলে প্রতিটির পরিমাণ ১০০ মিলিলিটারের বেশি হওয়া যাবে না।
ভ্রমণের আগে যা করবেন
লাগেজ নীতিমালা এয়ারলাইনস, রুট এবং টিকিটের শ্রেণিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বিদেশ বা অভ্যন্তরীণ যেকোনো ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের অফিসিয়াল নির্দেশনা দেখে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে অতিরিক্ত চার্জ, নিরাপত্তা জটিলতা বা বিমানবন্দরে অপ্রত্যাশিত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
সঠিক নিয়ম মেনে লাগেজ প্রস্তুত করলে ভ্রমণ হবে আরও সহজ, নিরাপদ এবং ঝামেলামুক্ত।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!