রাতভর খেলা দেখেও পরদিন থাকুন ফুরফুরে!
ফুটবল বিশ্বকাপ, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট কিংবা প্রিয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ—খেলার উত্তেজনায় রাত জেগে থাকা অনেক ক্রীড়াপ্রেমীর কাছেই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে রাতভর খেলা দেখার পরের দিন অফিস, ক্লাস বা দৈনন্দিন কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে দেখা দেয় ক্লান্তি, ঝিমুনি ও মনোযোগের ঘাটতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক রাত কম ঘুম হলে কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করে সাময়িক ক্লান্তি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। জেনে নিন রাত জাগার পরও কর্মক্ষম ও সতেজ থাকার কয়েকটি কার্যকর উপায়।
ঘুম থেকে উঠেই পানি পান ও সূর্যের আলো
রাত জাগার পর সকালে শরীর সাধারণত কিছুটা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করা উপকারী। পাশাপাশি জানালা খুলে বা বারান্দায় গিয়ে কিছুক্ষণ সূর্যের আলো গ্রহণ করলে শরীর দ্রুত সজাগ হয়ে ওঠে।
সকালের প্রাকৃতিক আলো মস্তিষ্কে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের কার্যকারিতা কমিয়ে জাগ্রত থাকার সংকেত দেয়, ফলে ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।
কফি পান করুন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে
অনেকেই ক্লান্তি দূর করতে একের পর এক চা বা কফি পান করেন। তবে অতিরিক্ত ক্যাফিন শরীরে অস্বস্তি, বুক ধড়ফড় বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সকালে এক কাপ কফি বা চা পান করাই যথেষ্ট। এরপর সারাদিন পর্যাপ্ত পানি বা লেবুর শরবত পান করা ভালো। দুপুরের পর অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটি পরবর্তী রাতের ঘুম ব্যাহত করতে পারে।
হালকা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন
ঘুমের ঘাটতির কারণে শরীর সাধারণত বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা চর্বিযুক্ত খাবার সাময়িক শক্তি দিলেও পরে আরও বেশি ক্লান্তি তৈরি করতে পারে।
এ কারণে দুপুরের খাবারে ভাত, শাকসবজি, ডাল, ডিম কিংবা প্রোটিনসমৃদ্ধ হালকা খাবার রাখা ভালো। এসব খাবার দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
দুপুরে ২০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ
রাত জাগার কারণে শরীরের ঘুমের ঘাটতি পূরণে দুপুরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের ছোট্ট একটি ঘুম কার্যকর হতে পারে।
তবে এই বিশ্রাম ৩০ মিনিটের বেশি হওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ সময় ঘুমালে শরীর গভীর ঘুমে চলে যেতে পারে, ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর আরও বেশি অবসাদ অনুভূত হতে পারে।
হাঁটাচলা ও ঠান্ডা পানির ঝাপটা
কাজের ফাঁকে চোখে ঘুম ভর করলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা বা মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেওয়া উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি ঘণ্টায় অন্তত পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে হাঁটলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরের অলসতা কমে যায়। পাশাপাশি ঠান্ডা পানির স্পর্শ মস্তিষ্ককে সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে।
পরের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি
এক রাতের ঘুমের ঘাটতি সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া গেলেও এটি দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাই খেলা দেখার পরের রাতে অবশ্যই ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পরিপূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, খেলার আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি শরীরের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই আপনাকে রাখবে সুস্থ, সতেজ ও কর্মক্ষম।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!