Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 January 2026

চীনা গবেষকদের বড় সাফল্য: ১৮ ঘণ্টায় ক্যানসার শনাক্তের প্রযুক্তি

চীনা গবেষকদের বড় সাফল্য: ১৮ ঘণ্টায় ক্যানসার শনাক্তের প্রযুক্তি

প্রাণঘাতী অগ্ন্যাশয় ক্যানসার শনাক্তে যুগান্তকারী সাফল্যের দাবি করেছেন চীনা গবেষকরা। তারা এমন এক উন্নত জিনগত বিশ্লেষণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে মাত্র ১৮ ঘণ্টায় সম্পূর্ণ ডিএনএ বিশ্লেষণ করে ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব।

চীনা বিজ্ঞান একাডেমির গুয়াংজু ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিসিন অ্যান্ড হেলথের অধ্যাপক **লিন দা** এবং সাংহাই জেনারেল হাসপাতালের ল্যাবরেটরি অ্যানিম্যাল সেন্টারের পরিচালক **ইয়াং ইউছিন**-এর নেতৃত্বে তৈরি এই প্রযুক্তির নাম **‘ইউনি-সি’ (Uni-C)**। এটি একটি আধুনিক **সিঙ্গেল-সেল মাল্টিওমিকস** প্রযুক্তি, যা প্রচলিত বায়োপসির সমান নির্ভুল ফল দিতে সক্ষম।

বৈজ্ঞানিক সাময়িকী **নেচার কমিউনিকেশনস**-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ইউনিসি একসঙ্গে তিন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে—

* বৃহৎ কাঠামোগত পরিবর্তন
* ক্ষুদ্র জিনগত মিউটেশন
* থ্রি-ডি ক্রোমাটিনের গঠন

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি কেবল অগ্ন্যাশয় ক্যানসার নয়, অন্যান্য ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত, রোগ পর্যবেক্ষণ এবং রোগীভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

### রক্ত পরীক্ষাতেই মিলবে পূর্ণ জিনগত তথ্য

এই গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে রক্তে থাকা অত্যন্ত বিরল **সার্কুলেটিং টিউমার সেল (CTC)**। টিউমার থেকে ছড়িয়ে পড়া এসব কোষ প্রাথমিক টিউমারের পূর্ণ জিনগত তথ্য বহন করে। তবে প্রতি মিলিলিটার রক্তে মাত্র কয়েকটি কোষ থাকায় এতদিন এদের বিশ্লেষণ ছিল অত্যন্ত কঠিন।

ইউনি-সি প্রযুক্তি এই সীমাবদ্ধতা দূর করেছে। মাত্র **৭টি CTC** ব্যবহার করেই গবেষকরা টিউমার টিস্যুতে থাকা প্রায় **৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র মিউটেশন** এবং **৭৫ শতাংশ কাঠামোগত পরিবর্তন** শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন—যা আক্রমণাত্মক বায়োপসির সমতুল্য নির্ভুলতা।

### বায়োপসি ছাড়াই রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধুমাত্র রক্ত পরীক্ষার সাহায্যে টিউমারের পরিবর্তন রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ফলে রোগীদের বারবার কষ্টকর বায়োপসি করতে হবে না।

অধ্যাপক লিন দা বলেন,
“রক্তের নমুনা ব্যবহার করে অ-আক্রমণাত্মকভাবে ক্যানসার পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া ও ক্যানসার পুনরাবৃত্তি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।”

### ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার চিকিৎসার সম্ভাবনা

ইউনি-সি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা **১০টি কাস্টম অ্যান্টিজেন** তৈরি করেছেন। প্রাণী পরীক্ষায় এর মধ্যে **৫টি অ্যান্টিজেন** রোগ প্রতিরোধী কোষ সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। সাধারণ ওষুধ **ক্লোরোকুইন**-এর সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োগ করলে টিউমারের আকার প্রায় **৫০ শতাংশ কমে যায়**।

এতে ভবিষ্যতে রোগীভিত্তিক ক্যানসার ভ্যাকসিন বা **পার্সোনালাইজড ইমিউনোথেরাপি** তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেস এক বিবৃতিতে জানায়,
“ইউনি-সি ক্যানসার গবেষণা ও চিকিৎসার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে। এটি নির্ভুল ক্যানসার চিকিৎসায় সিঙ্গেল-সেল মাল্টিওমিকস প্রযুক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত করবে।”

গবেষকদের আশা, কিছু সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন ক্যানসার শনাক্ত ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চীনা গবেষকদের বড় সাফল্য: ১৮ ঘণ্টায় ক্যানসার শনাক্তের প্রযুক্তি

Comment / Reply From

You May Also Like